Dhaka Sentinel-Bangla

মায়ের কিডনিতেও বাঁচানো গেল না জিসানকে

মায়ের কিডনিতেও বাঁচানো গেল না জিসানকে
জিসান তালুকদার

প্রিয় সন্তানকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন মা। স্বপ্ন দেখেছিলেন, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ছেলেকে ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মায়ের সেই আত্মত্যাগও কাজে এল না। কিডনি প্রতিস্থাপনের ৩২ দিনের মাথায় মারা গেলেন জিসান তালুকদার জনি (৩৫)। রোববার সকালে ঢাকার একটি কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জিসান তালুকদার শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমূল ইউনিয়নের ভায়াডাঙ্গা এলাকার বাঘা গ্রামের তালুকদার বাড়ির মৃত জাহাঙ্গীর তালুকদারের ছোট ছেলে। তিনি স্ত্রী, ১৪ বছর বয়সী ছেলে ও ছয় বছর বয়সী মেয়ে রেখে গেছেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে জনির কিডনির জটিলতা ধরা পড়ে। চিকিৎসা করিয়েও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি।

প্রতিবেশী ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান জানান, পোলট্রি ব্যবসায়ী জনির চিকিৎসার জন্য জমিজমা বিক্রি করে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করে পরিবার। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চলতি বছর চিকিৎসকরা জানান, তাঁর দুটি কিডনিই কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। এরপর নিয়মিত ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে বেঁচে ছিলেন তিনি।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মায়ের আত্মত্যাগ আর সন্তানের চিরবিদায় সত্যিই হৃদয়বিদারক।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার মাস আগে চিকিৎসকরা জনিকে বাঁচাতে কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মা রওশন আরা বেগম। গত ৬ অক্টোবর তাঁর একটি কিডনি ছেলের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রোববার সকালে মারা যান জনি।

জনির স্বজন মোস্তাক আহমেদ বলেন, সন্তানের জীবন বাঁচাতে জনমদুখিনী মা নিজের কিডনি পর্যন্ত দিয়েছেন। ছেলের সুস্থতার আশায় কত চেষ্টা, আকুতি, দোয়া আর নির্ঘুম রাত পার করেছেন পরিবারের সদস্যরা। মায়ের আত্মত্যাগ ও পরিবারের নিরন্তর প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো গেল না। মৃত্যুর কাছে সব চেষ্টা অসহায় হয়ে গেল।

রানীশিমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সোহাগ বলেন, জনির মাকে দেখলে কষ্টে বুক ফেটে যায়। আজ রোববার রাত সাড়ে ১০টায় বাড়ির আঙিনায় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বিষয় : মৃত্যু শেরপুর কিডনি দান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Dhaka Sentinel-Bangla

সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬


মায়ের কিডনিতেও বাঁচানো গেল না জিসানকে

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
প্রিয় সন্তানকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন মা। স্বপ্ন দেখেছিলেন, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ছেলেকে ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মায়ের সেই আত্মত্যাগও কাজে এল না। কিডনি প্রতিস্থাপনের ৩২ দিনের মাথায় মারা গেলেন জিসান তালুকদার জনি (৩৫)। রোববার সকালে ঢাকার একটি কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জিসান তালুকদার শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমূল ইউনিয়নের ভায়াডাঙ্গা এলাকার বাঘা গ্রামের তালুকদার বাড়ির মৃত জাহাঙ্গীর তালুকদারের ছোট ছেলে। তিনি স্ত্রী, ১৪ বছর বয়সী ছেলে ও ছয় বছর বয়সী মেয়ে রেখে গেছেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে জনির কিডনির জটিলতা ধরা পড়ে। চিকিৎসা করিয়েও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। প্রতিবেশী ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান জানান, পোলট্রি ব্যবসায়ী জনির চিকিৎসার জন্য জমিজমা বিক্রি করে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করে পরিবার। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চলতি বছর চিকিৎসকরা জানান, তাঁর দুটি কিডনিই কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। এরপর নিয়মিত ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে বেঁচে ছিলেন তিনি। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মায়ের আত্মত্যাগ আর সন্তানের চিরবিদায় সত্যিই হৃদয়বিদারক। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার মাস আগে চিকিৎসকরা জনিকে বাঁচাতে কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মা রওশন আরা বেগম। গত ৬ অক্টোবর তাঁর একটি কিডনি ছেলের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রোববার সকালে মারা যান জনি। জনির স্বজন মোস্তাক আহমেদ বলেন, সন্তানের জীবন বাঁচাতে জনমদুখিনী মা নিজের কিডনি পর্যন্ত দিয়েছেন। ছেলের সুস্থতার আশায় কত চেষ্টা, আকুতি, দোয়া আর নির্ঘুম রাত পার করেছেন পরিবারের সদস্যরা। মায়ের আত্মত্যাগ ও পরিবারের নিরন্তর প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো গেল না। মৃত্যুর কাছে সব চেষ্টা অসহায় হয়ে গেল। রানীশিমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সোহাগ বলেন, জনির মাকে দেখলে কষ্টে বুক ফেটে যায়। আজ রোববার রাত সাড়ে ১০টায় বাড়ির আঙিনায় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

Dhaka Sentinel-Bangla

​Founder & CEO: Rimon Hasan  CEO & Editor-in-Chief: Juwel Mia Managing Director: Tanjim Tohin

কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত