চট্টগ্রাম নগরের অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিউ মার্কেট মোড়। প্রতিনিয়ত এখানে যাতায়াত করেন অসংখ্য মানুষ। নগরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই মোড়ের ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে ছিল। ৩৬ ফুট প্রস্থের সড়কের অর্ধেকের বেশি অংশজুড়ে বসত হকারদের দোকান। ফলে ফুটপাত দিয়ে চলাচলের সুযোগ না থাকায় পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে হাঁটতে হতো। এতে যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটত।
অবশেষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে নিউ মার্কেট মোড় ও আশপাশের ফুটপাত হকারমুক্ত করেছে। উচ্ছেদ করা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। উচ্ছেদ করা জায়গা যাতে আবার দখল না হয়, সে জন্য নেওয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা। বাগান তৈরি, গাছ লাগানো, রেলিং স্থাপন ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উচ্ছেদের পর চেনা নিউ মার্কেট মোড় এখন হকারমুক্ত এক ভিন্ন রূপে দৃশ্যমান হচ্ছে।
নিউ মার্কেটের পূর্ব প্রান্তের কোতোয়ালি, উত্তর প্রান্তের শাহ আমানত মার্কেট, দক্ষিণের সদরঘাট রোডসহ আশপাশের ফুটপাতেও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করেছে চসিক।
জানা যায়, নিউ মার্কেট মোড় হকারমুক্ত করে পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চসিক বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও কিছুদিন পর আবারও ফুটপাত দখল হয়ে যেত। এবার দখল ঠেকাতে বাগান তৈরি, গাছ লাগানো, রেলিং স্থাপন ও ড্রেন সংস্কারসহ দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগরে সড়ক রয়েছে এক হাজার ৪৪২ কিলোমিটার এবং ফুটপাত প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার হকার বিভিন্ন স্থানে দোকান বসান। ফলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ফুটপাত হকারদের দখলে থাকে।
নগরবাসীর দাবি, শুধু নিউ মার্কেট নয়, নগরের প্রতিটি ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত। বিশেষ করে বহদ্দারহাট, আন্দরকিল্লা, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, কদমতলী, দামপাড়া ও স্টেশন রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক এলাকার সামনের ফুটপাতগুলোতে এ সমস্যা আরও প্রকট।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমীন বলেন, ফুটপাত সব সময় পথচারীদের জন্য। কিন্তু নানাভাবে হকাররা সেখানে বসে পড়েন। বারবার উচ্ছেদ করা হলেও তাঁরা আবার ফিরে আসেন। তবে এবার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন করে যাতে কেউ দখল করতে না পারে, সে জন্য সৌন্দর্যবর্ধনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিম বলেন, উচ্ছেদ করা স্থানে প্রথমে ভাঙা ড্রেনগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। এরপর ফুটপাত রেলিং দিয়ে সুশৃঙ্খল করা এবং রং করে সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। সড়কের মিডিয়ানে লাগানো হবে গাছ। এসব কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে চসিক।
জানা যায়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ‘প্রিপারেশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২০-২০৪১)’ প্রকল্পের আওতায় নগরের সড়ক ও ফুটপাতের অবস্থান নিয়ে জরিপ করা হয়। জরিপের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নগরের ৯৭ শতাংশ রাস্তার একাংশ দখলে রয়েছে। ৬৪ শতাংশ রাস্তায় পথচারী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। জরিপ করা সড়কের ৮৩ শতাংশ এলাকায় ফুটপাত রয়েছে। এর মধ্যে ৭১ শতাংশ ফুটপাত সম্পূর্ণ বা আংশিক দখলে। আর ৬৮ শতাংশ ফুটপাত হাঁটার উপযোগী নয়। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, গত ১৭ বছরে চসিক ও সিডিএ নগরের সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে ব্যয় করেছে ১৭ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সিডিএ ২৪টি প্রকল্পে ব্যয় করেছে ১২ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা এবং চসিক ১৫টি প্রকল্পে চার হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। বিপুল অর্থ ব্যয়ে সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করা হলেও প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। কারণ, সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনো ভাসমান হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে।
বিষয় : বদলে যাচ্ছে হকারমুক্ত নিউ মার্কেট মোড় চেনা রূপ

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

মতামত