Dhaka Sentinel-Bangla

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ: গাজীপুরে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ: গাজীপুরে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি

শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে গাজীপুরে দেড় শ'র বেশি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে৷ তবে বিক্ষোভ চলছে৷

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকেরা আজ সোমবার আবারও রাস্তায় নেমেছেন৷ পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে৷ বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন৷ এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ বিজিবির একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার প্রথম আলো৷

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, আজও শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন৷ শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ কাজ করছে৷

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেন৷ অবরোধের কারণে লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ থাকে, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা৷

পোশাকশ্রমিকরা পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভে নেমেছেন৷ দাবিগুলো হলো, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, সব পোশাক কারখানায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার বাস্তবায়ন, শ্রমিক আমজাদ হোসেন কামালসহ সব শ্রমিক হত্যার বিচারে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন এবং বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা৷

সাভারের আশুলিয়ায় আজ সোমবারও বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা৷ বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্দ্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে৷ অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ করেন৷

সেখানে অন্তত দুজনকে আটক করেছে পুলিশ৷

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ পোশাক কারখানায় ভাঙচুর এবং পোশাক খাতের বাইরে অন্য পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাগুলো সন্দেহজনক৷ সাধারণ শ্রমিকেরা কখনো নিজেদের কারখানা ভাঙচুর করেন না৷ এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন৷

শিল্প ও ঢাকা জেলা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানান আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া৷ তিনি বলেন, শিল্প পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কারখানায় নাশকতা বা ভাঙচুর ঠেকাতে সচেষ্ট আছে৷ নরসিংহপুর, বিশমাইল ও কাঠগড়া এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে৷ তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে অনেক বহিরাগত দুষ্কৃতকারী যোগ দিয়েছেন বলে তাদের কাছে তথ্য আছে৷ তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ তাদের আটকের চেষ্টা চলছে৷

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Dhaka Sentinel-Bangla

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ: গাজীপুরে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে গাজীপুরে দেড় শ'র বেশি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে৷ তবে বিক্ষোভ চলছে৷ ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকেরা আজ সোমবার আবারও রাস্তায় নেমেছেন৷ পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে৷ বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন৷ এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ বিজিবির একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার প্রথম আলো৷ গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, আজও শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন৷ শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ কাজ করছে৷ ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেন৷ অবরোধের কারণে লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ থাকে, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা৷ পোশাকশ্রমিকরা পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভে নেমেছেন৷ দাবিগুলো হলো, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, সব পোশাক কারখানায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার বাস্তবায়ন, শ্রমিক আমজাদ হোসেন কামালসহ সব শ্রমিক হত্যার বিচারে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন এবং বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা৷ সাভারের আশুলিয়ায় আজ সোমবারও বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা৷ বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্দ্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে৷ অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ করেন৷ সেখানে অন্তত দুজনকে আটক করেছে পুলিশ৷ বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ পোশাক কারখানায় ভাঙচুর এবং পোশাক খাতের বাইরে অন্য পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাগুলো সন্দেহজনক৷ সাধারণ শ্রমিকেরা কখনো নিজেদের কারখানা ভাঙচুর করেন না৷ এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন৷ শিল্প ও ঢাকা জেলা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানান আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া৷ তিনি বলেন, শিল্প পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কারখানায় নাশকতা বা ভাঙচুর ঠেকাতে সচেষ্ট আছে৷ নরসিংহপুর, বিশমাইল ও কাঠগড়া এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে৷ তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে অনেক বহিরাগত দুষ্কৃতকারী যোগ দিয়েছেন বলে তাদের কাছে তথ্য আছে৷ তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ তাদের আটকের চেষ্টা চলছে৷

Dhaka Sentinel-Bangla

​Founder & CEO: Rimon Hasan  CEO & Editor-in-Chief: Juwel Mia Managing Director: Tanjim Tohin

কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত