Dhaka Sentinel-Bangla

নতুন রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে মেসি

নতুন রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে মেসি

বয়স যেন আর্জেন্টাইন্টান সুপারস্টার মেসির কাছে শুধুই একটি সংখ্যা। ৩৯ বছর বয়সে মেসি ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি কীর্তি গড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন।

রবিবার মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জয় পেয়েছে ইন্টার মায়ামি। শেষ দিকে দুর্দান্ত এক গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মেসি।

এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে লিগে তার গোলসংখ্যা এখন ২৬ । গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এফসি ডালাসের স্ট্রাইকার পেতার মুসার চেয়ে চার গোলে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বিশেষ এক সম্ভাবনা।

২০০৫ সালে গোল ও অ্যাসিস্টের ভিত্তিতে পয়েন্ট পদ্ধতির পরিবর্তে শুধু গোলসংখ্যার ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়ার নিয়ম চালুর পর থেকে কোনো খেলোয়াড় টানা দুই মৌসুম এমএলএস গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। দুই খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে অ্যাসিস্ট এবং এরপর মাঠে কম সময় কাটানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

নিয়মিত মৌসুমের আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা এখন গোল্ডেন বুট ধরে রাখার দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

মজার বিষয় হলো, একাধিক খেলোয়াড় একাধিকবার এমএলএস গোল্ডেন বুট জিতলেও ২০০৫ সালে গোলভিত্তিক পদ্ধতি চালুর পর কেউ টানা দুই মৌসুম এই পুরস্কার জিততে পারেননি।

ক্রিস ওয়ানডোলোস্কি ২০১০ ও ২০১২ সালে এবং ব্র্যাডলি রাইট-ফিলিপস ২০১৪ ও ২০১৬ সালে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। তবে কেউই টানা দুই মৌসুম পুরস্কারটি ধরে রাখতে পারেননি। এবার সেই ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ মেসির সামনে।

২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুইবার এমএলএসের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়ের (এমভিপি) পুরস্কার জিতে ইতোমধ্যে ইতিহাস গড়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।

আরেকটি গোল্ডেন বুট জয় তাঁর অসাধারণ ক্যারিয়ারে যোগ করবে নতুন এক কৃতিত্ব।

ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে ড্যানিয়েল গাজদাগের গোলে এগিয়ে যায় নিউ ইংল্যান্ড। ফলে ম্যাচে ফিরতে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে মায়ামি। ৬৯তম মিনিটে তেলাসকো সেগোভিয়ার সঙ্গে দারুণ এক আক্রমণ সাজানোর পর জার্মান বেরতেরামে হেডে গোল করে মায়ামিকে সমতায় ফেরান। সেই আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মেসির।

৮৩তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে গোলরক্ষক ম্যাট টার্নারকে পরাস্ত করেন মেসি।

এ যেন চিরচেনা মেসি- দলের সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া।

এই জয়ের ফলে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামি।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। বর্তমানে এমএলএসে নিজের চতুর্থ মৌসুম খেলছেন তিনি। ২০২৫ সালে প্রথমবার গোল্ডেন বুট জেতেন মেসি। নিয়মিত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল করে ইন্টার মায়ামির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জেতেন তিনি। সেই অসাধারণ মৌসুমে সতীর্থদের দিয়ে ১৯টি গোলও করিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এমএলএস গোল্ডেন বুটের হিসাব করা হয় শুধু নিয়মিত মৌসুমে করা গোলের ভিত্তিতে। প্লে-অফে করা গোল এই পুরস্কারের হিসাবে যুক্ত হয় না।

গোল্ডেন বুটের দৌড় শেষ হওয়ার আগে গোলসংখ্যা বাড়ানোর জন্য মেসির হাতে রয়েছে আর মাত্র একটি সুযোগ। আগামী ৭ নভেম্বর নিজেদের নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচে শার্লট এফসির মুখোমুখি হবে ইন্টার মায়ামি।

২৬ গোল নিয়ে এবং মুসার চেয়ে চার গোলে এগিয়ে থাকায় পুরস্কারটি জয়ের পথে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন মেসি।

বিষয় : মেসি রেকর্ড

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Dhaka Sentinel-Bangla

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


নতুন রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে মেসি

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
বয়স যেন আর্জেন্টাইন্টান সুপারস্টার মেসির কাছে শুধুই একটি সংখ্যা। ৩৯ বছর বয়সে মেসি ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি কীর্তি গড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। রবিবার মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জয় পেয়েছে ইন্টার মায়ামি। শেষ দিকে দুর্দান্ত এক গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মেসি। এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে লিগে তার গোলসংখ্যা এখন ২৬ । গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এফসি ডালাসের স্ট্রাইকার পেতার মুসার চেয়ে চার গোলে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বিশেষ এক সম্ভাবনা। ২০০৫ সালে গোল ও অ্যাসিস্টের ভিত্তিতে পয়েন্ট পদ্ধতির পরিবর্তে শুধু গোলসংখ্যার ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়ার নিয়ম চালুর পর থেকে কোনো খেলোয়াড় টানা দুই মৌসুম এমএলএস গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। দুই খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে অ্যাসিস্ট এবং এরপর মাঠে কম সময় কাটানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। নিয়মিত মৌসুমের আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা এখন গোল্ডেন বুট ধরে রাখার দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। মজার বিষয় হলো, একাধিক খেলোয়াড় একাধিকবার এমএলএস গোল্ডেন বুট জিতলেও ২০০৫ সালে গোলভিত্তিক পদ্ধতি চালুর পর কেউ টানা দুই মৌসুম এই পুরস্কার জিততে পারেননি। ক্রিস ওয়ানডোলোস্কি ২০১০ ও ২০১২ সালে এবং ব্র্যাডলি রাইট-ফিলিপস ২০১৪ ও ২০১৬ সালে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। তবে কেউই টানা দুই মৌসুম পুরস্কারটি ধরে রাখতে পারেননি। এবার সেই ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ মেসির সামনে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুইবার এমএলএসের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়ের (এমভিপি) পুরস্কার জিতে ইতোমধ্যে ইতিহাস গড়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। আরেকটি গোল্ডেন বুট জয় তাঁর অসাধারণ ক্যারিয়ারে যোগ করবে নতুন এক কৃতিত্ব। ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে ড্যানিয়েল গাজদাগের গোলে এগিয়ে যায় নিউ ইংল্যান্ড। ফলে ম্যাচে ফিরতে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে মায়ামি। ৬৯তম মিনিটে তেলাসকো সেগোভিয়ার সঙ্গে দারুণ এক আক্রমণ সাজানোর পর জার্মান বেরতেরামে হেডে গোল করে মায়ামিকে সমতায় ফেরান। সেই আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মেসির। ৮৩তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে গোলরক্ষক ম্যাট টার্নারকে পরাস্ত করেন মেসি। এ যেন চিরচেনা মেসি- দলের সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া। এই জয়ের ফলে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামি। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। বর্তমানে এমএলএসে নিজের চতুর্থ মৌসুম খেলছেন তিনি। ২০২৫ সালে প্রথমবার গোল্ডেন বুট জেতেন মেসি। নিয়মিত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল করে ইন্টার মায়ামির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জেতেন তিনি। সেই অসাধারণ মৌসুমে সতীর্থদের দিয়ে ১৯টি গোলও করিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এমএলএস গোল্ডেন বুটের হিসাব করা হয় শুধু নিয়মিত মৌসুমে করা গোলের ভিত্তিতে। প্লে-অফে করা গোল এই পুরস্কারের হিসাবে যুক্ত হয় না। গোল্ডেন বুটের দৌড় শেষ হওয়ার আগে গোলসংখ্যা বাড়ানোর জন্য মেসির হাতে রয়েছে আর মাত্র একটি সুযোগ। আগামী ৭ নভেম্বর নিজেদের নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচে শার্লট এফসির মুখোমুখি হবে ইন্টার মায়ামি। ২৬ গোল নিয়ে এবং মুসার চেয়ে চার গোলে এগিয়ে থাকায় পুরস্কারটি জয়ের পথে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন মেসি।

Dhaka Sentinel-Bangla

​Founder & CEO: Rimon Hasan  CEO & Editor-in-Chief: Juwel Mia Managing Director: Tanjim Tohin

কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত