Dhaka Sentinel-Bangla

প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকঋণ ও সেবা সহজ করার আহ্বান

প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকঋণ ও সেবা সহজ করার আহ্বান

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দয়া বা সহানুভূতি নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। তাদের ব্যবসার প্রসার ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ এবং অন্যান্য সেবা সহজলভ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার ব্র্যাক ইন সেমিনার কক্ষে রোটারি ক্লাব অব ঢাকা নর্থ আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান ঋণ, আর্থিক পণ্য ও অন্যান্য সেবা সম্পর্কে তথ্য সহজলভ্য করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের সক্ষম উদ্যোক্তা হিসেবে মূল্যায়ন করে ব্যবসা পরিচালনা ও সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করতে হবে।

সেমিনারে অ্যালায়েড ফাইন্যান্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কান্তি কুমার সাহা, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির শাকিল আহমেদ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা জিশান কিংশুক হক এবং উপায়ের শাকিল উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার বিকাশে বিদ্যমান বিভিন্ন আর্থিক পণ্য ও সেবা নিয়ে আলোচনা করেন।

ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জের পরিচালক দেবাশীষ রায় বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সহায়ক বিভিন্ন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে আরও বেশি জানাতে হবে। এসব সুযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে তারা নিজেরাই সেগুলো কাজে লাগাতে পারবেন।

ব্র্যাকের ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুশন প্রোগ্রামের লিড জাহিদুল কবির এবং বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটি নেটওয়ার্কের অপারেশনস ডিরেক্টর আজিজা আহমেদ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ও দায়িত্ব তুলে ধরেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে তাদের কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

অ্যালায়েড ফাইন্যান্সের সৈয়দ এ জে রিজভী বলেন, বিশেষ জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিংয়ের সব নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে। তবে নিয়মের মধ্যে থেকেও নমনীয় হওয়া এবং উদ্যোগী ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এটি অবশ্যই সম্ভব।’

সেরিব্রাল পালসি ফাউন্ডেশনের বাপ্পী সরকার জানান, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন তারা। তিনি বলেন, ‘অর্থবহ পরিবর্তন চাইলে আমাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।’

প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের পক্ষে বক্তব্য দেন ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান আহোনা রন্ধনশালার প্রতিষ্ঠাতা শর্মী রায়। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দয়া বা সহানুভূতি নয়, বরং স্বাবলম্বী ও সফল হওয়ার সুযোগ চান। ব্যাংকগুলোর নিয়ম মেনে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

শর্মী রায় বলেন, ‘ঋণ ও অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধার জন্য কোথায় এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে, সেটি জানা আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমরা অবশ্যই সহযোগিতা চাই। তবে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এখন সবার আগে উদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চায়।’

সেমিনারে সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আফসান চৌধুরী। তিনি ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ আরও সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে প্রচলিত ব্যাংকিং নীতিমালার মধ্যে থেকে তাদের সহায়তার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সেমিনার শেষে ব্যাংকিং সুবিধার জন্য আবেদন ও তা পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশিকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Dhaka Sentinel-Bangla

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকঋণ ও সেবা সহজ করার আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দয়া বা সহানুভূতি নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। তাদের ব্যবসার প্রসার ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ এবং অন্যান্য সেবা সহজলভ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার ব্র্যাক ইন সেমিনার কক্ষে রোটারি ক্লাব অব ঢাকা নর্থ আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান। সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান ঋণ, আর্থিক পণ্য ও অন্যান্য সেবা সম্পর্কে তথ্য সহজলভ্য করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের সক্ষম উদ্যোক্তা হিসেবে মূল্যায়ন করে ব্যবসা পরিচালনা ও সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করতে হবে। সেমিনারে অ্যালায়েড ফাইন্যান্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কান্তি কুমার সাহা, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির শাকিল আহমেদ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা জিশান কিংশুক হক এবং উপায়ের শাকিল উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার বিকাশে বিদ্যমান বিভিন্ন আর্থিক পণ্য ও সেবা নিয়ে আলোচনা করেন। ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জের পরিচালক দেবাশীষ রায় বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সহায়ক বিভিন্ন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে আরও বেশি জানাতে হবে। এসব সুযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে তারা নিজেরাই সেগুলো কাজে লাগাতে পারবেন। ব্র্যাকের ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুশন প্রোগ্রামের লিড জাহিদুল কবির এবং বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটি নেটওয়ার্কের অপারেশনস ডিরেক্টর আজিজা আহমেদ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ও দায়িত্ব তুলে ধরেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে তাদের কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন তারা। অ্যালায়েড ফাইন্যান্সের সৈয়দ এ জে রিজভী বলেন, বিশেষ জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিংয়ের সব নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে। তবে নিয়মের মধ্যে থেকেও নমনীয় হওয়া এবং উদ্যোগী ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এটি অবশ্যই সম্ভব।’ সেরিব্রাল পালসি ফাউন্ডেশনের বাপ্পী সরকার জানান, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন তারা। তিনি বলেন, ‘অর্থবহ পরিবর্তন চাইলে আমাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।’ প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের পক্ষে বক্তব্য দেন ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান আহোনা রন্ধনশালার প্রতিষ্ঠাতা শর্মী রায়। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দয়া বা সহানুভূতি নয়, বরং স্বাবলম্বী ও সফল হওয়ার সুযোগ চান। ব্যাংকগুলোর নিয়ম মেনে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। শর্মী রায় বলেন, ‘ঋণ ও অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধার জন্য কোথায় এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে, সেটি জানা আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমরা অবশ্যই সহযোগিতা চাই। তবে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এখন সবার আগে উদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চায়।’ সেমিনারে সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আফসান চৌধুরী। তিনি ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ আরও সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে প্রচলিত ব্যাংকিং নীতিমালার মধ্যে থেকে তাদের সহায়তার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। সেমিনার শেষে ব্যাংকিং সুবিধার জন্য আবেদন ও তা পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশিকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

Dhaka Sentinel-Bangla

​Founder & CEO: Rimon Hasan  CEO & Editor-in-Chief: Juwel Mia Managing Director: Tanjim Tohin

কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত