Dhaka Sentinel-Bangla

গলা খুসখুস, স্বর ভাঙছে? কারণ হতে পারে অ্যাসিড রিফ্লাক্স

গলা খুসখুস, স্বর ভাঙছে? কারণ হতে পারে অ্যাসিড রিফ্লাক্স
সংগৃহীত প্রতীকী ছবি

সর্দি-কাশি নেই, অথচ দিনের পর দিন গলায় কিছু একটা আটকে রয়েছে, এমন অনুভূতি হচ্ছে। কখনও আবার স্বরও ভেঙে যাচ্ছে? বার বার গলা পরিষ্কার করেও মিলছে না স্বস্তি। সর্দি-কাশি ছাড়াই যদি দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকে, তা হলে সাধারণ ঠান্ডা লাগা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বেঙ্গালুরুর চিকিৎসক এইচ কে সুশীন দত্তের মতে, বার বার গলা খুসখুস করা কিংবা স্বর ভেঙে যাওয়া অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অন্যতম লক্ষণ।

অ্যাসিড রিফ্লাক্স কী? পাকস্থলীর অ্যাসিড যখন খাদ্যনালি দিয়ে উল্টো পথে উপরে উঠে আসে, তখন তাকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলা হয়। কখনও সেই অ্যাসিড গলার পেছনের অংশ এবং স্বরযন্ত্রে পৌঁছে জ্বালা ও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এর ফলে গলায় খুসখুস ভাব, বার বার গলা পরিষ্কার করার প্রবণতা, শুকনো কাশি কিংবা স্বর কর্কশ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কারও কারও বুক জ্বালা করে, মুখে টক স্বাদ লাগে কিংবা খাবার গলা দিয়ে উপরে উঠে আসছে বলে মনে হয়। খাওয়ার পর বা রাতে শুয়ে পড়লে উপসর্গ বাড়তে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসিডের সংস্পর্শে থাকলে শুধু গলায় অস্বস্তি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে স্বরযন্ত্রও। ভোকাল কর্ডে প্রদাহ বা জ্বালাভাব তৈরি হতে পারে। এমনকি বার বার জ্বালার কারণে ভোকাল কর্ডে গ্র্যানুলোমার মতো ছোট, নিরীহ বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী স্বরভঙ্গ, কণ্ঠস্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া কিংবা স্বরের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা হতে পারে। যাদের পেশাগত কারণে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে হয় বা গান গাইতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। অতিরিক্ত ঝাল, তেল-মশলাদার খাবার খেলে সমস্যা বাড়লে সেগুলি এড়িয়ে চলুন। ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে খাবার খাবেন না। রাতের খাবার ও শুতে যাওয়ার মধ্যে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টার ব্যবধান রাখার চেষ্টা করুন। রাতে উপসর্গ বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে বিছানার মাথার দিক কিছুটা উঁচু করে ঘুমোতে পারেন। ওজন বেশি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখাও উপকারী হতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং গলার উপর অতিরিক্ত চাপ দেবেন না। চিৎকার করে কথা বলা কিংবা দীর্ঘক্ষণ জোরে কথা বলা এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টাসিড বা অন্য ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে নিজে থেকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। গলার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে স্পিচ থেরাপিস্টের সাহায্যে কণ্ঠস্বরের উপযোগী কিছু ব্যায়ামও শেখা যেতে পারে।

গলা খুসখুস করা, স্বর ভেঙে যাওয়া বা বুক জ্বালার সমস্যা দীর্ঘদিন চললে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সব সময় গলার অস্বস্তির কারণ ঠান্ডা লাগা নয়। সময়মতো সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করলে স্বরযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

বিষয় : হেলথ-টিপস

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Dhaka Sentinel-Bangla

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


গলা খুসখুস, স্বর ভাঙছে? কারণ হতে পারে অ্যাসিড রিফ্লাক্স

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
সর্দি-কাশি নেই, অথচ দিনের পর দিন গলায় কিছু একটা আটকে রয়েছে, এমন অনুভূতি হচ্ছে। কখনও আবার স্বরও ভেঙে যাচ্ছে? বার বার গলা পরিষ্কার করেও মিলছে না স্বস্তি। সর্দি-কাশি ছাড়াই যদি দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকে, তা হলে সাধারণ ঠান্ডা লাগা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বেঙ্গালুরুর চিকিৎসক এইচ কে সুশীন দত্তের মতে, বার বার গলা খুসখুস করা কিংবা স্বর ভেঙে যাওয়া অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অন্যতম লক্ষণ। অ্যাসিড রিফ্লাক্স কী? পাকস্থলীর অ্যাসিড যখন খাদ্যনালি দিয়ে উল্টো পথে উপরে উঠে আসে, তখন তাকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলা হয়। কখনও সেই অ্যাসিড গলার পেছনের অংশ এবং স্বরযন্ত্রে পৌঁছে জ্বালা ও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এর ফলে গলায় খুসখুস ভাব, বার বার গলা পরিষ্কার করার প্রবণতা, শুকনো কাশি কিংবা স্বর কর্কশ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কারও কারও বুক জ্বালা করে, মুখে টক স্বাদ লাগে কিংবা খাবার গলা দিয়ে উপরে উঠে আসছে বলে মনে হয়। খাওয়ার পর বা রাতে শুয়ে পড়লে উপসর্গ বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসিডের সংস্পর্শে থাকলে শুধু গলায় অস্বস্তি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে স্বরযন্ত্রও। ভোকাল কর্ডে প্রদাহ বা জ্বালাভাব তৈরি হতে পারে। এমনকি বার বার জ্বালার কারণে ভোকাল কর্ডে গ্র্যানুলোমার মতো ছোট, নিরীহ বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী স্বরভঙ্গ, কণ্ঠস্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া কিংবা স্বরের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা হতে পারে। যাদের পেশাগত কারণে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে হয় বা গান গাইতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। অতিরিক্ত ঝাল, তেল-মশলাদার খাবার খেলে সমস্যা বাড়লে সেগুলি এড়িয়ে চলুন। ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে খাবার খাবেন না। রাতের খাবার ও শুতে যাওয়ার মধ্যে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টার ব্যবধান রাখার চেষ্টা করুন। রাতে উপসর্গ বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে বিছানার মাথার দিক কিছুটা উঁচু করে ঘুমোতে পারেন। ওজন বেশি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখাও উপকারী হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং গলার উপর অতিরিক্ত চাপ দেবেন না। চিৎকার করে কথা বলা কিংবা দীর্ঘক্ষণ জোরে কথা বলা এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টাসিড বা অন্য ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে নিজে থেকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। গলার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে স্পিচ থেরাপিস্টের সাহায্যে কণ্ঠস্বরের উপযোগী কিছু ব্যায়ামও শেখা যেতে পারে। গলা খুসখুস করা, স্বর ভেঙে যাওয়া বা বুক জ্বালার সমস্যা দীর্ঘদিন চললে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সব সময় গলার অস্বস্তির কারণ ঠান্ডা লাগা নয়। সময়মতো সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করলে স্বরযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

Dhaka Sentinel-Bangla

​Founder & CEO: Rimon Hasan  CEO & Editor-in-Chief: Juwel Mia Managing Director: Tanjim Tohin

কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত