বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন কোম্পানিকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় সিঙ্গাপুর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ। সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। লি কুয়ান ইউর দূরদর্শী নেতৃত্বে সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, এর মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে আবারও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় সিঙ্গাপুর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
হাইকমিশনার ডেরেক লো বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কারিগরি শিক্ষার প্রসারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রসারের মাধ্যমে দেশের কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।
ডেরেক লো আরও বলেন, জাহাজ ও বিভিন্ন ধরনের নৌযান নির্মাণ সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণশিল্পের প্রসার ও ড্রাই ডক স্থাপনের মাধ্যমে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে সুফল পেতে পারে।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য, তৈরি পোশাকশিল্পের প্রসার, দ্বিপক্ষীয় সংসদীয় সফর বিনিময়, সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পাবলিক ও সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
স্পিকার এ সময় ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের জন্য সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে সিঙ্গাপুর দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

মতামত