Dhaka Sentinel-Bangla

লোকালয়ে আবারও বাঘের আনাগোনা, আতঙ্কে ৫ গ্রামের মানুষ

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন সোনাতলা গ্রামে আবারও বাঘের উপস্থিতি দেখা গেছে। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে স্থানীয় এক বাসিন্দা বাঘটিকে দেখতে পান। পরে গতকাল ও পরশু দিন বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা, বাগান ও ধানখেতে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া যায়। এতে সুন্দরবনসংলগ্ন পূর্ব সোনাতলা, পশ্চিম সোনাতলা, পানিরঘাট, মডেল বাজার ও বকুলতলা গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই দিন ধরে বাঘটি লোকালয়ে ঘোরাঘুরি করছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঘটির অবস্থান শনাক্তে ড্রোন ওড়ানো হচ্ছে। বনরক্ষী, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি) ও কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা এলাকায় পাহারা দিচ্ছেন। মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। বনসংলগ্ন প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রতন খান জানান, পশ্চিম সোনাতলায় শাহ আলম হাওলাদারের গোয়ালঘরের আশপাশে এবং পানিরঘাটে আসাদুল হাওলাদারের রান্নাঘরের পেছনে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। তাঁর ধারণা, বাঘটি লোকালয়ে লুকিয়ে থাকতে পারে। গতকাল বিকেলে সিপিজি টিম লিডার মো. খলিল জমাদ্দার বলেন, ‘শনিবার রাত ১০টার দিকে পশ্চিম সোনাতলার বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদার বাড়ি ফেরার পথে টর্চলাইটের আলোয় বাঘটি দেখতে পান। পরদিন সকালে কৃষক সরোয়ার হাওলাদার ধানখেতে কীটনাশক ছিটাতে গিয়ে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান। পরে ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানখেত, বাড়ির আঙিনা ও নদীর চরে পায়ের ছাপ পান।’ পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ধানখেতে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। বাঘটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। রাতে একা চলাচল না করা এবং শিশু ও গবাদিপশুকে নিরাপদে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর সকালে একই গ্রামের কাছে ভোলা নদী সাঁতরে একটি বাঘ লোকালয়ে প্রবেশ করেছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বাঘের উপস্থিতিতে উদ্বেগ বেড়েছে।

লোকালয়ে আবারও বাঘের আনাগোনা, আতঙ্কে ৫ গ্রামের মানুষ