ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেশার টাকা না পেয়ে মারুফা আক্তার (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামী ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের বিরাসার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কুদ্দুস মিয়া (৬০) পলাতক রয়েছেন। নিহত মারুফা সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামের তাহের মিয়ার মেয়ে। প্রায় দেড় মাস আগে বিরাসার গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এটি মারুফার তৃতীয় এবং কুদ্দুসের দ্বিতীয় বিয়ে। কুদ্দুস পেশায় রিকশাচালক। আগের সংসারে মারুফার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুদ্দুস প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্ন মাজারে ঘুরে বেড়াতেন। এ সূত্রেই মারুফার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। বিয়ের পর তাঁরা বিরাসার গ্রামের পাল্লা পুকুরের পশ্চিমপাড়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। কুদ্দুস মাদকাসক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। তিনি প্রায়ই নেশা করে স্ত্রীকে মারধর করতেন। গত রবিবার রাতে নেশা করার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চান কুদ্দুস। মারুফা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে মারধর করেন তিনি। পরদিন সোমবার সকালে ঘরের ভেতর থেকে মারুফার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে মুঠোফোনের রিংটোনের শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘরের ভেতরে ঢুকে মারুফার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে তাঁরা নিহতের পরিবার ও পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন কুদ্দুস। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খাইরুল আলম বলেন, নিহতের বুকে ও পিঠে ছুরির একাধিক আঘাত রয়েছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী পলাতক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বামীই তাঁকে হত্যা করেছেন। তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।