সিডনিতে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্য ও শিক্ষা সহযোগিতা জোরদারে এবিবিএফের
অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, উচ্চশিক্ষা, বিনিয়োগ এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সিডনিতে নেটওয়ার্কিং ডিনারের আয়োজন করেছে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম (এবিবিএফ)। গত ২৬ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় সিডনির সার্কুলার কুয়ের ঐতিহ্যবাহী ক্যাফে সিডনিতে এ আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের প্রতিনিধিদলের অস্ট্রেলিয়া সফর এবং অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন (অস্ট্রেড)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার করা ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে অস্ট্রেডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান ভি কে সিং, আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিভাগের প্রধান এলডি জার্নেট, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র ডিরেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান এবং শ্রীলঙ্কায় অস্ট্রেডের প্রতিনিধি স্যান্ডি।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ইশতিয়াক আবেদিন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মানস কুমার সিং এবং প্রভোস্ট মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।
এ ছাড়া আতিশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল আলম, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাসের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুল বারী মজুমদার এবং ম্যাকুয়ারি ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি বিভাগের প্রধান তানভীর শাহেদ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এবিবিএফের নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা. আয়াজ চৌধুরী, আলমগীর ইসলাম, হোসেন কবির, মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু, মোজাম্মেল হোসেন বাবু, নাইম আবদুল্লাহ, মাহফুজুল হক চৌধুরী, মোহাম্মদ জামান টিটু ও মো. কামরুজ্জামান বাপ্পি।
এবিবিএফের সাধারণ সম্পাদক ব্রায়ান লাউলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের প্রতিনিধিদল ও অস্ট্রেডের কর্মকর্তাদের স্বাগত জানান সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট আবদুল খান রতন।
বক্তব্যে আবদুল খান রতন বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ককে কার্যকর অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত অংশীদারত্বে রূপ দেওয়া সময়ের দাবি। দুই দেশের ব্যবসায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়লে নতুন বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শিক্ষা সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।
আলোচনায় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানো, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি শিক্ষা ও বাণিজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
অস্ট্রেডের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান ভি কে সিং নেটওয়ার্কিং ডিনারের আয়োজনের জন্য এবিবিএফের প্রেসিডেন্ট আবদুল খান রতন ও নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি অস্ট্রেডের সঙ্গে এবিবিএফের চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও পারস্পরিক যোগাযোগ ও যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠান পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব এবং নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের পথ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক ও শিক্ষাগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। দুই দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে ভবিষ্যতেও কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবিবিএফ।
সংগঠনটি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক উন্নয়ন এবং নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।