Dhaka Sentinel-Bangla

তাহসিফ হত্যা মামলায় ওই তরুণী দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে

তাহসিফ হত্যা মামলায় ওই তরুণী দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে
কে এম তাহসিফ সাউরি

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার তরুণীকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ ওই তরুণীর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এই তরুণী ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, তবে অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় অনেক প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। ঘটনার রাতে তাহসিফের সঙ্গে তরুণীর কোনো বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল কি না, তাঁদের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল কি না, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার এবং এই তরুণী ও দীপের বক্তব্য ক্রসচেক করার জন্য তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

শুনানিতে আসামির রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ভিকটিম ও এই আসামি মিলে দুটো রেস্তোরাঁয় ঘুরেছিলেন। এ সময় তাঁরা কী কথা বলেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কোনো ঝগড়াঝাটি হয়েছিল কি না, তা জানা প্রয়োজন। এ ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামির সাত দিনের রিমান্ডের প্রার্থনা করছি।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ইমান হোসেন ও আবদুর রহমান শুনানিতে বলেন, ‘আসামিকে এ মামলায় সন্দিহানভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিকটিম ও এই আসামি একত্রে রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন, তা আমরা অস্বীকার করছি না। খাওয়া শেষে ভিকটিম নিজেই এই আসামিকে রাত ১২টার দিকে বাসায় পৌঁছে দেন। এরপর আসামি আর কিছুই জানেন না।’

শুনানিতে এই আইনজীবীরা আরও বলেন, ‘রেস্তোরাঁয় থাকা অবস্থায় তাঁদের মধ্যে কোনো প্রকার ঝগড়াঝাটি, কথা–কাটাকাটি, মনোমালিন্য হয়নি। রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজ ছাড়া আর কোথাও তাঁদের দেখা যায়নি। আসামি একজন শিক্ষার্থী। অসুস্থ ও নারী বিবেচনায় রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করছি।’ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ সাউরি। পরদিন বুধবার তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর মরদেহ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাহসিফ সাউরির বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

৩০ অক্টোবর রাতে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি রেখে হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় দীপকে। এরপর তাঁকে দুই দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৩১ অক্টোবর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় ওই তরুণীকে। পরদিন তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

বিষয় : মামলা মৃত্যু রিমান্ড তরুণ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Dhaka Sentinel-Bangla

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


তাহসিফ হত্যা মামলায় ওই তরুণী দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার তরুণীকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজ ওই তরুণীর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এই তরুণী ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, তবে অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় অনেক প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। ঘটনার রাতে তাহসিফের সঙ্গে তরুণীর কোনো বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল কি না, তাঁদের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল কি না, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার এবং এই তরুণী ও দীপের বক্তব্য ক্রসচেক করার জন্য তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। শুনানিতে আসামির রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ভিকটিম ও এই আসামি মিলে দুটো রেস্তোরাঁয় ঘুরেছিলেন। এ সময় তাঁরা কী কথা বলেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কোনো ঝগড়াঝাটি হয়েছিল কি না, তা জানা প্রয়োজন। এ ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামির সাত দিনের রিমান্ডের প্রার্থনা করছি। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ইমান হোসেন ও আবদুর রহমান শুনানিতে বলেন, ‘আসামিকে এ মামলায় সন্দিহানভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিকটিম ও এই আসামি একত্রে রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন, তা আমরা অস্বীকার করছি না। খাওয়া শেষে ভিকটিম নিজেই এই আসামিকে রাত ১২টার দিকে বাসায় পৌঁছে দেন। এরপর আসামি আর কিছুই জানেন না।’ শুনানিতে এই আইনজীবীরা আরও বলেন, ‘রেস্তোরাঁয় থাকা অবস্থায় তাঁদের মধ্যে কোনো প্রকার ঝগড়াঝাটি, কথা–কাটাকাটি, মনোমালিন্য হয়নি। রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজ ছাড়া আর কোথাও তাঁদের দেখা যায়নি। আসামি একজন শিক্ষার্থী। অসুস্থ ও নারী বিবেচনায় রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করছি।’ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ সাউরি। পরদিন বুধবার তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর মরদেহ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাহসিফ সাউরির বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। ৩০ অক্টোবর রাতে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি রেখে হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় দীপকে। এরপর তাঁকে দুই দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৩১ অক্টোবর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় ওই তরুণীকে। পরদিন তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

Dhaka Sentinel-Bangla

​Founder & CEO: Rimon Hasan  CEO & Editor-in-Chief: Juwel Mia Managing Director: Tanjim Tohin

কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত