Dhaka Sentinel-Bangla

অক্টোবরের শেষেও গরম ঢাকা, হেমন্তের শীতলতা কোথায়?

অক্টোবরের শেষেও গরম ঢাকা, হেমন্তের শীতলতা কোথায়?
ছবি: সংগৃহীত

অক্টোবরের শেষ। ঋতুচক্রের হিসাবে হেমন্ত এসে গেছে। একসময় এ সময়ে ঢাকার ভোরে হালকা শীতের আমেজ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন অক্টোবরের শেষ দিনগুলোতেও রাজধানীতে গরমের অনুভূতি স্পষ্ট। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় দুপুরে তাপমাত্রা উঠেছিল অন্তত ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। প্রশ্ন উঠছে, ঢাকার হেমন্ত কি ক্রমেই উষ্ণ হয়ে উঠছে?

আবহাওয়ার ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকার তাপমাত্রা বছরভেদে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ সময়ের উষ্ণ আবহাওয়া নগরজীবনে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে দিনের গরমের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা বেশি থাকলে নগরবাসী অস্বস্তিতে থাকছেন।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর ঢাকায় দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টায় ছিল ৩১ দশমিক ২ ডিগ্রি। অর্থাৎ অক্টোবরের শেষেও রাজধানীতে দিনের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির ওপরে থাকছে।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার উষ্ণ আবহাওয়ার পেছনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি স্থানীয় নগরায়ণের প্রভাবও বিবেচনা করতে হবে। শহরের কংক্রিটের ভবন, পিচঢালা রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামো দিনের বেলায় সূর্যের তাপ শোষণ করে। রাতে সেই তাপ ধীরে ধীরে বের হয়। ফলে শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা কমতে সময় লাগে। এই ঘটনাকে বলা হয় নগর তাপদ্বীপ বা আরবান হিট আইল্যান্ড প্রভাব।

ঢাকায় সবুজ এলাকা ও জলাশয় কমে যাওয়া, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানবাহন এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে নির্গত তাপও স্থানীয় উষ্ণতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এর সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়।

জলবায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় তীব্র গরমের ঝুঁকি বাড়ছে।

বাংলাদেশের ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্তকে সাধারণত শীতের আগমনী বার্তার সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকার আবহাওয়ায় সেই শীতলতার অনুভূতি সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির ওপরে থাকলে এবং রাতেও উষ্ণতা বজায় থাকলে হেমন্তের স্বস্তি অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়।

আবহাওয়ার এই বাস্তবতা রাজধানীর নগর পরিকল্পনার গুরুত্বও সামনে নিয়ে আসছে। শহরে গাছপালা ও জলাশয় সংরক্ষণ, উন্মুক্ত স্থান বৃদ্ধি এবং তাপসহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Dhaka Sentinel-Bangla

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


অক্টোবরের শেষেও গরম ঢাকা, হেমন্তের শীতলতা কোথায়?

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
অক্টোবরের শেষ। ঋতুচক্রের হিসাবে হেমন্ত এসে গেছে। একসময় এ সময়ে ঢাকার ভোরে হালকা শীতের আমেজ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন অক্টোবরের শেষ দিনগুলোতেও রাজধানীতে গরমের অনুভূতি স্পষ্ট। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় দুপুরে তাপমাত্রা উঠেছিল অন্তত ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। প্রশ্ন উঠছে, ঢাকার হেমন্ত কি ক্রমেই উষ্ণ হয়ে উঠছে? আবহাওয়ার ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকার তাপমাত্রা বছরভেদে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ সময়ের উষ্ণ আবহাওয়া নগরজীবনে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে দিনের গরমের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা বেশি থাকলে নগরবাসী অস্বস্তিতে থাকছেন। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর ঢাকায় দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টায় ছিল ৩১ দশমিক ২ ডিগ্রি। অর্থাৎ অক্টোবরের শেষেও রাজধানীতে দিনের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির ওপরে থাকছে। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার উষ্ণ আবহাওয়ার পেছনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি স্থানীয় নগরায়ণের প্রভাবও বিবেচনা করতে হবে। শহরের কংক্রিটের ভবন, পিচঢালা রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামো দিনের বেলায় সূর্যের তাপ শোষণ করে। রাতে সেই তাপ ধীরে ধীরে বের হয়। ফলে শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা কমতে সময় লাগে। এই ঘটনাকে বলা হয় নগর তাপদ্বীপ বা আরবান হিট আইল্যান্ড প্রভাব। ঢাকায় সবুজ এলাকা ও জলাশয় কমে যাওয়া, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানবাহন এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে নির্গত তাপও স্থানীয় উষ্ণতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এর সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়। জলবায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় তীব্র গরমের ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশের ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্তকে সাধারণত শীতের আগমনী বার্তার সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকার আবহাওয়ায় সেই শীতলতার অনুভূতি সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির ওপরে থাকলে এবং রাতেও উষ্ণতা বজায় থাকলে হেমন্তের স্বস্তি অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। আবহাওয়ার এই বাস্তবতা রাজধানীর নগর পরিকল্পনার গুরুত্বও সামনে নিয়ে আসছে। শহরে গাছপালা ও জলাশয় সংরক্ষণ, উন্মুক্ত স্থান বৃদ্ধি এবং তাপসহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

Dhaka Sentinel-Bangla

​Founder & CEO: Rimon Hasan  CEO & Editor-in-Chief: Juwel Mia Managing Director: Tanjim Tohin

কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত