Dhaka Sentinel-Bangla

শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের মামলার শুনানি ১৭ নভেম্বর

শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের মামলার শুনানি ১৭ নভেম্বর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

দশ বছর আগে রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি ভবনে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি ফের পিছিয়ে ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বুধবার এ আদেশ দেন।

এদিন আসামিপক্ষে সময় চান আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। প্রসিকিউশনের আপত্তি না থাকায় ফরমাল চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য নতুন তারিখ ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, অলি মিয়া, মামুনুর রশিদ, মঈনুল করিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মামলার পলাতক ছয় আসামি হলেন– ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

এ মামলায় কারাগারে আছেন পুলিশের সাবেক আইজি এ কে এম শহীদুল হক এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান হলি আর্টিজান হামলার ঘটনার পর ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ‘তাজ মঞ্জিল’ নামে একটি বাড়িতে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ভবনের আকৃতির কারণে স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি ‘জাহাজবাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। অপারেশন স্টর্ম-২৬ নামে ওই অভিযানে ৯ তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় হাসান নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং একজন পালিয়ে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ওই অভিযানে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার পরিকল্পিত ঘটনার অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করা হয়। 

জয়দেবপুরে সাতজনকে হত্যা মামলার শুনানি পিছিয়েছে ২০১৬ সালে গাজীপুরের জয়দেবপুরে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পুলিশের সাবেক দুই আইজিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর দিন রাখা হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

ওই ঘটনায় নিহত সাতজনের একজন ছিলেন ইবরাহীম। তিনি যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ইবরাহীমের বাবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় ছেলেকে বিচারবহির্ভূতভাবে গুমসহ হত্যার অভিযোগ দায়ের করেন।

শেখ হাসিনা ছাড়া এ মামলার অপর আসামিরা হলেন– সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক দুই আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ও জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক অতিরিক্ত আইজি মনিরুল ইসলাম, সাবেক এসপি আসাদুজ্জামান,  গাজীপুরের তৎকালীন এসপি হারুন অর রশীদ, আরিফুর রহমান মণ্ডল ও এস এম জাহাঙ্গীর হাছান। বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন শহীদুল হক ও আছাদুজ্জামান মিয়া।

চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে গত ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিষয় : শেখ হাসিনা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Dhaka Sentinel-Bangla

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের মামলার শুনানি ১৭ নভেম্বর

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
দশ বছর আগে রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি ভবনে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি ফের পিছিয়ে ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বুধবার এ আদেশ দেন। এদিন আসামিপক্ষে সময় চান আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। প্রসিকিউশনের আপত্তি না থাকায় ফরমাল চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য নতুন তারিখ ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, অলি মিয়া, মামুনুর রশিদ, মঈনুল করিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। মামলার পলাতক ছয় আসামি হলেন– ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন। এ মামলায় কারাগারে আছেন পুলিশের সাবেক আইজি এ কে এম শহীদুল হক এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান হলি আর্টিজান হামলার ঘটনার পর ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ‘তাজ মঞ্জিল’ নামে একটি বাড়িতে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ভবনের আকৃতির কারণে স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি ‘জাহাজবাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। অপারেশন স্টর্ম-২৬ নামে ওই অভিযানে ৯ তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় হাসান নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং একজন পালিয়ে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ওই অভিযানে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার পরিকল্পিত ঘটনার অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করা হয়।  জয়দেবপুরে সাতজনকে হত্যা মামলার শুনানি পিছিয়েছে ২০১৬ সালে গাজীপুরের জয়দেবপুরে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পুলিশের সাবেক দুই আইজিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর দিন রাখা হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। ওই ঘটনায় নিহত সাতজনের একজন ছিলেন ইবরাহীম। তিনি যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ইবরাহীমের বাবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় ছেলেকে বিচারবহির্ভূতভাবে গুমসহ হত্যার অভিযোগ দায়ের করেন। শেখ হাসিনা ছাড়া এ মামলার অপর আসামিরা হলেন– সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক দুই আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ও জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক অতিরিক্ত আইজি মনিরুল ইসলাম, সাবেক এসপি আসাদুজ্জামান,  গাজীপুরের তৎকালীন এসপি হারুন অর রশীদ, আরিফুর রহমান মণ্ডল ও এস এম জাহাঙ্গীর হাছান। বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন শহীদুল হক ও আছাদুজ্জামান মিয়া। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে গত ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়।

Dhaka Sentinel-Bangla

​Founder & CEO: Rimon Hasan  CEO & Editor-in-Chief: Juwel Mia Managing Director: Tanjim Tohin

কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত