Dhaka Sentinel-Bangla

সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে ১৫১ ধারা প্রয়োগের যৌক্তিকতার তদন্ত চায় এইচআরএসএস

সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে ১৫১ ধারা প্রয়োগের যৌক্তিকতার তদন্ত চায় এইচআরএসএস
পুলিশি হেফাজতে নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকার সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশের পর নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তারকে আটক করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ ও দাবি জানায় এইচআরএসএস।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও এইচআরএসএসের তথ্যানুসন্ধান অনুযায়ী, চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফেসবুকে লাইভ করার পর সাথী আক্তারের প্রতিষ্ঠানের সামনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তার বিচার দাবি করেন। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

তবে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভিডিওতে সরকারবিরোধী কিছু ছিল না এবং ভিডিওর কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। এসব বক্তব্য ও ঘটনার ধারাবাহিকতায় সাথী আক্তারের আটক ও কারাগারে পাঠানোর প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এইচআরএসএস জানায়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ৩১, ৩২ ও ৩৩ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গ্রেফতারসংক্রান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। একইভাবে, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) ৯ ও ১৯ অনুচ্ছেদে নির্বিচার আটক থেকে সুরক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা আসন্ন আমলযোগ্য অপরাধ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট শর্তে প্রয়োগযোগ্য। কেবল জনঅসন্তোষ বা সমালোচনামূলক বক্তব্যের ভিত্তিতে এ ক্ষমতা প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। জনতার ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের দায়িত্ব। সেই চাপের কারণে কোনো নাগরিকের স্বাধীনতা খর্ব করা আইনের শাসনের পরিপন্থী।

এ ঘটনায় সাথী আক্তারের গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানোর আইনগত ভিত্তি এবং ১৫১ ধারা প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছে এইচআরএসএস। একই সঙ্গে তার জামিন ও মুক্তির বিষয়ে দ্রুত আইনানুগ প্রতিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

আইন প্রয়োগে কোনো অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে এইচআরএসএস। পাশাপাশি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নির্বিচার গ্রেফতার থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে সাথী আক্তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সব ধরনের হুমকি ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এইচআরএসএস মনে করে, জননিরাপত্তা রক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী নয়। নাগরিককে জনতার চাপ ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ঘটনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিষয় : গ্রেফতার

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Dhaka Sentinel-Bangla

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে ১৫১ ধারা প্রয়োগের যৌক্তিকতার তদন্ত চায় এইচআরএসএস

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকার সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশের পর নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তারকে আটক করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ ও দাবি জানায় এইচআরএসএস। বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও এইচআরএসএসের তথ্যানুসন্ধান অনুযায়ী, চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফেসবুকে লাইভ করার পর সাথী আক্তারের প্রতিষ্ঠানের সামনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তার বিচার দাবি করেন। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। তবে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভিডিওতে সরকারবিরোধী কিছু ছিল না এবং ভিডিওর কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। এসব বক্তব্য ও ঘটনার ধারাবাহিকতায় সাথী আক্তারের আটক ও কারাগারে পাঠানোর প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এইচআরএসএস জানায়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ৩১, ৩২ ও ৩৩ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গ্রেফতারসংক্রান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। একইভাবে, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) ৯ ও ১৯ অনুচ্ছেদে নির্বিচার আটক থেকে সুরক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা আসন্ন আমলযোগ্য অপরাধ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট শর্তে প্রয়োগযোগ্য। কেবল জনঅসন্তোষ বা সমালোচনামূলক বক্তব্যের ভিত্তিতে এ ক্ষমতা প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। জনতার ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের দায়িত্ব। সেই চাপের কারণে কোনো নাগরিকের স্বাধীনতা খর্ব করা আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ ঘটনায় সাথী আক্তারের গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানোর আইনগত ভিত্তি এবং ১৫১ ধারা প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছে এইচআরএসএস। একই সঙ্গে তার জামিন ও মুক্তির বিষয়ে দ্রুত আইনানুগ প্রতিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। আইন প্রয়োগে কোনো অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে এইচআরএসএস। পাশাপাশি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নির্বিচার গ্রেফতার থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে সাথী আক্তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সব ধরনের হুমকি ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এইচআরএসএস মনে করে, জননিরাপত্তা রক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী নয়। নাগরিককে জনতার চাপ ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ঘটনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

Dhaka Sentinel-Bangla

​Founder & CEO: Rimon Hasan  CEO & Editor-in-Chief: Juwel Mia Managing Director: Tanjim Tohin

কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত