Dhaka Sentinel-Bangla

কারখানায় কাজ করতে গিয়ে হারিয়েছিলেন আঙুল, তিনিই চতুর্থবার হলেন প্রেসিডেন্ট

শৈশবে জীবিকার তাগিদে বাদাম বিক্রি করেছেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে জুতা পালিশ করেছেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে শিখেছেন অক্ষরজ্ঞান। এরপর ধাতুশ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুল। শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে হয়েছেন রাজনৈতিকভাবে পরিচিত। গড়েছেন নিজের রাজনৈতিক দল। তিনি চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে।  এই দীর্ঘ পথচলার মানুষটির নাম লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ব্রাজিলের রাজনীতিতে যিনি পরিচিত শুধু ‘লুলা’ নামে। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ৮০ বছর বয়সে এসে আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। প্রথম দফার ভোটে পরাজয়ের মুখে পড়ার পর মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়িয়ে এই জয় পেয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরলেন তিনি। লুলার এই প্রত্যাবর্তন তার রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি নাটকীয় অধ্যায়। অথচ যে মানুষটি একসময় রাজনীতিতে আসার কথাই ভাবেননি, তার হাত ধরেই বদলে যেতে শুরু করেছিল ব্রাজিলের শ্রমিক রাজনীতির গতিপথ। শ্রমিক থেকে রাজনীতির ময়দানে লুলার জন্ম এক দরিদ্র ও নিরক্ষর কৃষক পরিবারে। শৈশব কেটেছে অভাবের সঙ্গে লড়াই করে। সংসারের প্রয়োজনে কখনও বাদাম বিক্রি করেছেন, কখনও জুতা পালিশ করে উপার্জন করেছেন। ১০ বছর বয়সে গিয়ে পড়তে ও লিখতে শেখেন। পরে ধাতুশ্রমিক হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করেন সাও পাওলোর কাছের একটি শিল্পনগরীতে। কারখানার সেই দিনগুলোই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ১৯৬০-এর দশকে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুল হারান তিনি। শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকদের বঞ্চনা ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের সঙ্গে পরিচিত হন লুলা। একসময় জড়িয়ে পড়েন ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে। ১৯৭৫ সালে এক লাখ সদস্যের ধাতুশ্রমিক ইউনিয়নের নেতা নির্বাচিত হন তিনি। তখন ব্রাজিলের অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠন ছিল সরকারের অনুগত। লুলা সেই ধারায় পরিবর্তন আনেন। শ্রমিক সংগঠনগুলোকে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন আন্দোলনে পরিণত করতে ভূমিকা রাখেন। শ্রমিকদের দাবি আদায়ের আন্দোলন তাকে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ করে তোলে। ১৯৮০ সালে শ্রমিকনেতা, বুদ্ধিজীবী, ট্রটস্কিপন্থি ও গির্জার কর্মীদের একত্র করে প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ার্কার্স পার্টি (পিটি)। ব্রাজিলের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম বড় সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। শুরুতে রাষ্ট্রের ক্ষমতাকাঠামো আমূল বদলে দেওয়ার বিপ্লবী অঙ্গীকার থাকলেও সময়ের সঙ্গে দলটি বাস্তববাদী সামাজিক গণতান্ত্রিক অবস্থান গ্রহণ করে। তিনবার হার, তারপর প্রেসিডেন্ট রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করলেও প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথটা সহজ ছিল না লুলার জন্য। ২০০২ সালে প্রথমবার নির্বাচনে জয়ের আগে তিনবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। শেষ পর্যন্ত দারিদ্র্য থেকে উঠে আসা এই শ্রমিকনেতাই জয় করেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ২০০৩ সালে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রায় অর্ধশতাব্দী পর ব্রাজিলে প্রথম বামপন্থি নেতা হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন লুলা। তার প্রতিশ্রুতি ছিল ক্ষুধামুক্ত ব্রাজিল গড়া, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কার আনা এবং একটি আত্মবিশ্বাসী, মানবিক ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত জাতি প্রতিষ্ঠা করা। প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দুই মেয়াদে সামাজিক কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন তিনি। ন্যূনতম মজুরি মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে বেশি বাড়ান। দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সম্প্রসারণ করেন রাষ্ট্রীয় সহায়তা। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত কর্মসূচি ছিল ‘বলসা ফ্যামিলিয়া’। পারিবারিক ভাতা হিসেবে চালু এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষ উপকৃত হন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে তার জনপ্রিয়তাও বাড়তে থাকে। তবে এই কর্মসূচি দারিদ্র্যের মূল কারণগুলো দূর করতে পারেনি বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার মতো কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে এর সীমাবদ্ধতা ছিল। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন শেষে যখন প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়েন, তখন তার জনপ্রিয়তা ছিল ৮৩ শতাংশ। লাতিন আমেরিকার কোনো বিদায়ী নেতার জন্য যা ছিল ব্যতিক্রমী। তার শাসনামলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রাজিলের পরিচিতি বাড়ে। একই সময়ে দেশটি গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সময় পার করে। টানা তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকায় ক্ষমতা ছাড়েন লুলা। এর কিছুদিন পরই তার গলায় ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য নিজের পরিচিত দাড়িও কামিয়ে ফেলতে হয়েছিল তাকে। ২০১২ সালে চিকিৎসকেরা তাকে ক্যানসারমুক্ত ঘোষণা করেন। ক্ষমতার শীর্ষ থেকে কারাগারে লুলার মনোনীত উত্তরসূরির শাসনামলে ব্রাজিলের অগ্রগতির গতি থমকে যায়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পর দেশটি মন্দার মুখে পড়ে। একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি নিয়ে শুরু হয় বড় তদন্ত। ‘অপারেশন কার ওয়াশ’ নামে পরিচিত সেই তদন্তে জড়িয়ে পড়েন লুলাও। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে দুর্নীতির দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান ওএএসের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে সমুদ্রসৈকতের কাছে একটি ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে তাকে নয় বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আপিলের পর সেই সাজা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ বছর। এ ছাড়া দুটি নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ এবং সেই অর্থ দিয়ে পরিবারের ব্যবহৃত একটি দেশের বাড়ি সংস্কারের অভিযোগেও তাকে ১২ বছর ১১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6ae9b65e2f2e0" ) ); লুলা অবশ্য শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাকে এসব মামলায় জড়ানো হয়েছিল। ২০১৯ সালে কারাগারে ১৮ মাসের কিছু বেশি সময় কাটানোর পর মুক্তি পান তিনি। সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বলা হয়, আপিলের সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল, যা বেআইনি। ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশগুলোও বাতিল করা হয়। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে রাজনীতিতে ফেরেন লুলা। ২০২২ সালের নির্বাচনে ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় বলেছিলেন, এটিই হবে তার শেষ মেয়াদ। কিন্তু চার বছর পর আবারও তাকে প্রার্থী করে ওয়ার্কার্স পার্টি। আমাজন রক্ষা ও তেলের প্রশ্ন লুলার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতিও। ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে সমর্থকেরা তাকে ‘আমাজনের ত্রাণকর্তা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। আমাজন বন রক্ষায় তার অঙ্গীকারের প্রশংসা করেছিলেন তারা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করছেন পরিবেশবাদীরা। বিশেষ করে আমাজন নদীর মোহনার কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় তেল অনুসন্ধানের পক্ষে তার অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়েছে। লুলার যুক্তি, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার একসময় বন্ধ করার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তা জোগাতে তেল থেকে পাওয়া রাজস্ব গুরুত্বপূর্ণ। তার সরকার বলছে, আমাজন বনে উজাড়ের পরিমাণ কমেছে। স্যাটেলাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বন উজাড়ের পরিমাণ গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এটিকে নিজেদের নীতির সাফল্য হিসেবে দেখছে সরকার। ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্য লুলার তৃতীয় মেয়াদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনও মিলে গেছে। রাজনৈতিক আদর্শে দুই নেতা দুই মেরুর। প্রকাশ্য বক্তব্যেও তাদের মতপার্থক্য স্পষ্ট। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুলা বলেছিলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগে ওই বছরের জুলাইয়ে ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানচেষ্টার অভিযোগে চলমান বিচারকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেন লুলা। তার ভাষায়, ‘তিনি বিশ্বের সম্রাট নন।’ তবে চলতি বছরের মে মাসে হোয়াইট হাউসে দুই নেতার বৈঠকের পর সম্পর্কে কিছুটা পরিবর্তন আসে। বৈঠক শেষে ট্রাম্প লুলাকে ‘প্রাণবন্ত’ বলে অভিহিত করেন। লুলাও জানান, বৈঠক শেষে তিনি ‘খুব সন্তুষ্ট’। যদিও জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ব্রাজিলের অধিকাংশ পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। অপরাধ দমন ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ট্রাম্পের ঘোষিত ‘ডনরো ডকট্রিন’ নিয়েও আপত্তি রয়েছে লুলার। এই নীতিতে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের কথা বলা হয়েছে। এর জবাবে লুলার বক্তব্য, ‘ব্রাজিল কারও পেছনের উঠান নয়।’ পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে নতুন মিত্রের খোঁজ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে লুলার অবস্থানের আরেকটি দিক হলো চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতার সমালোচনা করেছেন তিনি। তার মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী দেশগুলোর হাতে এই ক্ষমতা থাকায় বিশ্ব রাজনীতিতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। ব্রাজিল, জার্মানি, ভারত, জাপান এবং আফ্রিকার দেশগুলোর মতো বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্রগুলো যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। ব্রাজিল ব্রিকস জোটের সক্রিয় সদস্য। এই জোটে রয়েছে রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। লুলা মনে করেন, পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবের বিপরীতে ব্রিকস একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ চললেও দেশটি থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তের পক্ষেও সাফাই দিয়েছেন তিনি। শৈশবের দারিদ্র্য, কারখানার দুর্ঘটনা, শ্রমিক আন্দোলন, রাজনৈতিক পরাজয়, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব, ক্যানসারের চিকিৎসা, দুর্নীতির মামলায় কারাবাস—লুলার জীবন একাধিক বাঁক পেরিয়েছে। তিনবার নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রথমবার ক্ষমতায় গিয়েছিলেন। কারাগার থেকে ফিরে আবারও জিতেছিলেন নির্বাচন। এবারও প্রথম দফার ভোটের ধাক্কা সামলে ফিরেছেন রাষ্ট্রক্ষমতায়। যে মানুষটি একদিন কারখানায় কাজ করতে গিয়ে বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুল হারিয়েছিলেন, সেই মানুষই এখন ব্রাজিলের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

কারখানায় কাজ করতে গিয়ে হারিয়েছিলেন আঙুল, তিনিই চতুর্থবার হলেন প্রেসিডেন্ট