Dhaka Sentinel-Bangla

সিনেমার মতো করে জেল থেকে পালায় ১৭ জন, তদন্তকারীদের চোখ ছানাবড়া

তামিলনাড়ুর থেনি জেলার একটি সাব-জেলে ১৭ জন বিচারাধীন বন্দির এক নাটকীয় পালানোর ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে এই দুঃসাহসিক জেল পালানোর পরিকল্পনাটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্র ছিল না বরং মাত্র কয়েক ঘণ্টার ভেতরেই এটি ছক কষা হয় এবং নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।  অনুসন্ধান অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা প্রায় সাতটার দিকে বন্দিদের মধ্যে ক্ষোভ থেকে এই ভাবনার সূত্রপাত ঘটে এবং রাত দশটার দিকে তারা অত্যন্ত চতুরতার সাথে এটি কার্যকর করে। মূলত বেশ কয়েকজন বন্দির জামিনের আবেদন আদালত কর্তৃক নাকচ হয়ে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দেয়। তদন্তকারীদের মতে, এই গোটা পরিকল্পনার মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে লিঙ্গ প্রসাদ নামে ছাব্বিশ বছর বয়সী এক বিচারাধীন বন্দির নাম। মাদুরাইয়ের বাসিন্দা এই যুবক শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও কৌশলে একটি ভুয়া চিকিৎসা সংকটের নাটক সাজিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের বিভ্রান্ত করার বুদ্ধি সাজায়। তার দেওয়া সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করে আরেক ছাব্বিশ বছর বয়সী ডাকাতি মামলার বন্দি মুথু ইলানগোভান। সে হঠাৎ করে মৃগীরোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিনয় শুরু করলে জেলকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যান। ঠিক তখনই সুযোগ বুঝে অন্যান্য বন্দিরা ব্যাপক হইচই ও চিৎকার শুরু করে দেয় এবং ব্লক থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর তারা রান্নাঘরের থালা-বাসন ও সরঞ্জাম হাতে তুলে নিয়ে দায়িত্বরত কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রবেশদ্বারের কাছে থাকা অন্য নিরাপত্তা কর্মীদের পরাস্ত করে তারা চাবি ছিনিয়ে নেয় এবং সুযোগ বুঝে দ্রুত চত্বর ছেড়ে পালিয়ে যায়। দক্ষিণ অঞ্চলের পুলিশ পরিদর্শক জেনারেল বিজয়েন্দ্র বিদারী পুরো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জানান যে বন্দিদের জেরার ভিত্তিতে প্রাথমিক তথ্যে এটি একটি আকস্মিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন বলেই স্পষ্ট হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জামিন বাতিলের খবর পাওয়ার পর বন্দিরা যখন হতাশায় ভুগছিল, তখনই লিঙ্গ প্রসাদ এই বুদ্ধিটি মাথায় আনে এবং বাকিরা দ্রুত তা গ্রহণ করে। উল্লেখ্য যে, সংগঠিত অপরাধ, ছিনতাই এবং চোরাই জিনিসপত্র নিজের দখলে রাখা ও বিক্রির মতো একাধিক মামলায় অভিযুক্ত রয়েছে এই লিঙ্গ প্রসাদ। জামিন না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে যে বন্দিরা ফুঁসছিল, তারা সহজেই এই উসকানিতে সাড়া দিয়ে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যে ব্লক থেকে এই ১৭ জন বন্দি চাবি ছিনিয়ে পালিয়ে যায়, সেখানে মোট ৩২ জন বিচারাধীন বন্দি অবস্থান করছিল। পুলিশ বর্তমানে বাকি বন্দিদের ভূমিকাও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে, কারণ ধারণা করা হচ্ছে যে তাদের কেউ কেউ হয়তো সরাসরি অংশ না নিলেও নেপথ্যে সহায়ক বা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। তবে পুলিশি তৎপরতায় ঘটনা ঘটার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পালিয়ে যাওয়া ১৭ জন বিচারাধীন বন্দির সকলকেই পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।  কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে ইতোমধ্যে জেলখানার নয়জন কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর পুরো তামিলনাড়ু রাজ্যের কারাব্যবস্থায় ব্যাপক নিরাপত্তার ফাঁকফোকর খতিয়ে দেখতে সিকিউরিটি অডিট বা নিরাপত্তা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের জেল বিভাগ। চলতি মাসের শেষ নাগাদ এই সুরক্ষা ব্যবস্থার গাফিলতিগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হবে, যার ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর ওয়াচটাওয়ারে সশস্ত্র প্রহরী মোতায়েনসহ কঠোর নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সূত: এনডিটিভি

সিনেমার মতো করে জেল থেকে পালায় ১৭ জন, তদন্তকারীদের চোখ ছানাবড়া