Dhaka Sentinel-Bangla

মাসের পর মাস উত্তরায় চীনাদের ব্লগিং, কোথায় যাচ্ছে এসব ভিডিও?

রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় মাসের পর মাস ধরে ভিডিও ধারণ করছেন একদল চীনা নাগরিক। রাস্তার অলিগলি, দোকানপাট থেকে শুরু করে মানুষের বসতবাড়িতেও ঢুকে ভিডিও করছেন তারা। এসব ভিডিও কোথায় প্রকাশ করা হচ্ছে, কী উদ্দেশ্যে ধারণ করা হচ্ছে—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল। কয়েক মাস আগে বিষয়টি প্রথম নজরে আসে উত্তরার বাসিন্দাদের। হাতে ক্যামেরা কিংবা মোবাইল নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চীনা নাগরিকদের ভিডিও ধারণের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটালে প্রকাশিত হয় ‘উত্তরার গলি-ঘুপচিতে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত হাজারো চীনা নাগরিক, রহস্য কী?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন। এরপর আরও অনুসন্ধানে উঠে আসে নতুন কিছু তথ্য। তবে আলোচনা ও উদ্বেগের মধ্যেও বন্ধ হয়নি তাদের ভিডিও ধারণের কার্যক্রম। এখনো উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত দেখা যাচ্ছে এসব চীনা নাগরিককে। উত্তরার সুইসগেট এলাকায় প্রায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করছেন রহিম মিয়া। তার দাবি, সম্প্রতি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ক্যামেরা হাতে চীনা নাগরিকদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। রাস্তা, দোকানপাট এমনকি মানুষের বাড়িঘরেও চলছে ভিডিও ধারণ। এসব ভিডিও কী উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু সুইসগেট নয়, উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর ও টেকপাড়া এলাকাতেও দেখা মিলছে তাদের। স্থানীয়দের দাবি, দেড় শতাধিক চীনা নাগরিক বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব ভিডিও ধারণ করছেন। পরে চীনের উইচ্যাট, ডুয়িনসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচার ও ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তরার বিভিন্ন এলাকার দৃশ্য অনলাইনে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাপন ও পরিবেশ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। এদিকে, ভিডিও ধারণের উদ্দেশ্য, এর পেছনে কারা রয়েছেন এবং এসব ভিডিও থেকে কোনো ধরনের আর্থিক আয় হচ্ছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে প্রবেশ করে ভিডিও ধারণের ঘটনায় গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, চীনা নাগরিকদের ভিডিও ধারণের বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। ভিডিও ধারণের সময় আপত্তিকর বা আইনবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ভিডিও ধারণের কার্যক্রমের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, কোথায় ব্যবহার হচ্ছে এসব দৃশ্য এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা নিয়ে এখনো রয়ে গেছে নানা প্রশ্ন। এসব প্রশ্নের সুষ্ঠু তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান উত্তরার বাসিন্দারা। 

মাসের পর মাস উত্তরায় চীনাদের ব্লগিং, কোথায় যাচ্ছে এসব ভিডিও?