Dhaka Sentinel-Bangla

নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে বিএমডব্লিউ উপহার বাবার

নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে বিএমডব্লিউ উপহার বাবার
২ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের বিএমডব্লিউ এমফোর কমপিটিশন গাড়ি। পাশে সামসুদ্দিন মিদ্যার ও তার ছেলে তালহা

সৌদি আরব কিংবা কুয়েতের ঘটনা নয়। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি এলাকার এক ব্যবসায়ী সামসুদ্দিন মিদ্যার। ষান্মাসিক পরীক্ষায় ৯৭ শতাংশ নম্বর পাওয়ার পুরস্কার হিসেবে নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে কিনে দিয়েছেন ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের একটি বিএমডব্লিউ এমফোর কমপিটিশন গাড়ি।

সামসুদ্দিনের ছেলে মহম্মদ তালহা বর্ধমানের রেনেসাঁ উপনগরীর একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সিবিএসই বোর্ডের স্কুলে পড়াশোনায় বরাবরই ভালো তালহা। সম্প্রতি ষান্মাসিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, সে পেয়েছে ৯৭ শতাংশ নম্বর। এই সাফল্যে খুশি হয়ে ছেলের বহু দিনের স্বপ্ন পূরণের সিদ্ধান্ত নেন সামসুদ্দিন।

শামসুদ্দিনের গলসিতে চারটি রাইস মিল আছে। চীন ও ভিয়েতনামে চাল রপ্তানি করেন। অঢেল টাকা-পয়সা। বিএমডব্লিউ তার কাছে বড় কোনো ব্যাপার নয়। গাড়িই তার সবচেয়ে শখের জিনিস। নিজের গ্যারাজে রেঞ্জ রোভার, ভলভো,মাহিন্দ্র থার, হুন্দাই আলকাজার— কী নেই! ছেলের ভালো রেজাল্টের খবর পাওয়া মাত্র সোজা মুম্বাই চলে যান। অন্ধেরির নামি শো-রুম থেকে গাড়ি কিনে তুলে দেন ছেলের হাতে। সেখান থেকে ট্রাকে চাপিয়ে নতুন গাড়ি নিয়ে আসেন পূর্ব বর্ধমানে।

কচি কলাপাতার মতো গাাড়ির রঙ। একেবারে চকচকে। শুক্রবার স্পেশাল কন্টেনারে সেই গাড়ি এসে পৌঁছে বর্ধমানের গলসিতে। তবে শুধু গাড়ি নয়। নম্বর প্লেটের জন্যও দেদার টাকা খরচ করেছেন তিনি। তার একাধিক গাড়ির নম্বরের শেষ তিনটি সংখ্যা ‘৫৫৫’। বলিউডের বাদশা শাহরুখ খানের মতো। তিনি অভিনেতা নন ঠিকই, তবে টাকার দৌড়ে খুব একটা পিছিয়েও নেই।

শামসুদ্দিন বলেন, ‘ছেলে অনেক আগেই আমাকে বলেছিল, আব্বা একটা বিএমডব্লিউ চাই। তাই কিনে দিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছেলে সবে ১৫ বছরে পা রেখেছে। লাইসেন্স নেই। তাই গাড়ি চালানোর প্রশ্নও ওঠে না।’

কোটি টাকার গাড়ি উপহার পেলেও তালহা এখনই গাড়ি চালানোর পক্ষে নয়, কারণ সে এখনও অপ্রাপ্তবয়স্ক, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। সে জানিয়েছে, আপাতত পড়াশোনাতেই মন দেবে। সপ্তাহে একদিন বাবার পাশে বসে গাড়ির রাইড উপভোগ করবে।

বিষয় : পশ্চিমবঙ্গ ভারত

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Dhaka Sentinel-Bangla

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে বিএমডব্লিউ উপহার বাবার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
সৌদি আরব কিংবা কুয়েতের ঘটনা নয়। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি এলাকার এক ব্যবসায়ী সামসুদ্দিন মিদ্যার। ষান্মাসিক পরীক্ষায় ৯৭ শতাংশ নম্বর পাওয়ার পুরস্কার হিসেবে নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে কিনে দিয়েছেন ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের একটি বিএমডব্লিউ এমফোর কমপিটিশন গাড়ি। সামসুদ্দিনের ছেলে মহম্মদ তালহা বর্ধমানের রেনেসাঁ উপনগরীর একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সিবিএসই বোর্ডের স্কুলে পড়াশোনায় বরাবরই ভালো তালহা। সম্প্রতি ষান্মাসিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, সে পেয়েছে ৯৭ শতাংশ নম্বর। এই সাফল্যে খুশি হয়ে ছেলের বহু দিনের স্বপ্ন পূরণের সিদ্ধান্ত নেন সামসুদ্দিন। শামসুদ্দিনের গলসিতে চারটি রাইস মিল আছে। চীন ও ভিয়েতনামে চাল রপ্তানি করেন। অঢেল টাকা-পয়সা। বিএমডব্লিউ তার কাছে বড় কোনো ব্যাপার নয়। গাড়িই তার সবচেয়ে শখের জিনিস। নিজের গ্যারাজে রেঞ্জ রোভার, ভলভো,মাহিন্দ্র থার, হুন্দাই আলকাজার— কী নেই! ছেলের ভালো রেজাল্টের খবর পাওয়া মাত্র সোজা মুম্বাই চলে যান। অন্ধেরির নামি শো-রুম থেকে গাড়ি কিনে তুলে দেন ছেলের হাতে। সেখান থেকে ট্রাকে চাপিয়ে নতুন গাড়ি নিয়ে আসেন পূর্ব বর্ধমানে। কচি কলাপাতার মতো গাাড়ির রঙ। একেবারে চকচকে। শুক্রবার স্পেশাল কন্টেনারে সেই গাড়ি এসে পৌঁছে বর্ধমানের গলসিতে। তবে শুধু গাড়ি নয়। নম্বর প্লেটের জন্যও দেদার টাকা খরচ করেছেন তিনি। তার একাধিক গাড়ির নম্বরের শেষ তিনটি সংখ্যা ‘৫৫৫’। বলিউডের বাদশা শাহরুখ খানের মতো। তিনি অভিনেতা নন ঠিকই, তবে টাকার দৌড়ে খুব একটা পিছিয়েও নেই। শামসুদ্দিন বলেন, ‘ছেলে অনেক আগেই আমাকে বলেছিল, আব্বা একটা বিএমডব্লিউ চাই। তাই কিনে দিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছেলে সবে ১৫ বছরে পা রেখেছে। লাইসেন্স নেই। তাই গাড়ি চালানোর প্রশ্নও ওঠে না।’ কোটি টাকার গাড়ি উপহার পেলেও তালহা এখনই গাড়ি চালানোর পক্ষে নয়, কারণ সে এখনও অপ্রাপ্তবয়স্ক, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। সে জানিয়েছে, আপাতত পড়াশোনাতেই মন দেবে। সপ্তাহে একদিন বাবার পাশে বসে গাড়ির রাইড উপভোগ করবে।

Dhaka Sentinel-Bangla

​Founder & CEO: Rimon Hasan  CEO & Editor-in-Chief: Juwel Mia Managing Director: Tanjim Tohin

কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত