Dhaka Sentinel-Bangla

১৬ শিক্ষকের বিপরীতে ৪ শিক্ষার্থী, তবুও পাস করেনি কেউ

১৬ শিক্ষকের বিপরীতে ৪ শিক্ষার্থী, তবুও পাস করেনি কেউ
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সূর্য তরুণ শিক্ষাঙ্গন আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ । ছবি: ইত্তেফাক

টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সূর্যতরুণ শিক্ষাঙ্গন আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চার শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। 

এর আগে, ২০২৫ সালেও ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করেছিল। ধারাবাহিক এই ফল বিপর্যয়ে প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ১৯৮১ সালে সূর্যতরুণ শিক্ষাঙ্গন নামে একটি কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৮ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখা এমপিওভুক্ত হলেও কলেজ শাখা এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় কলেজ শাখার অধিকাংশ শিক্ষক অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন। ফলে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা জয়নাল আবেদীন জানান, কলেজ শাখায় ১৬ জন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকেরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসেন না। এ কারণে নিয়মিত ক্লাসও হয় না।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য দুই শিক্ষার্থী লালন মিয়া ও রানা হাসান জানান, গত প্রায় দুই বছরে তাদের মাত্র দুই থেকে তিন দিন ক্লাস হয়েছে। এ সময়ে কোনো মাসিক বা নির্বাচনী পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি। শুধু ফরম পূরণ করে তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজ শাখার ভবনের কক্ষগুলোতে তালা ঝুলছে। শ্রেণিকক্ষগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষকের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

স্কুল শাখার একজন শিক্ষক জানান, গত বছর কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। অন্যদিকে, একাদশ শ্রেণিতে তিনজন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও তারা কেউ নিয়মিত ক্লাসে আসে না। এ কারণে শিক্ষকেরাও প্রতিষ্ঠানে আসেন না।

কলেজ শাখার অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর কলেজ শাখায় মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় গত পাঁচ বছর ধরে কলেজ শাখার শিক্ষকেরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসছেন না।

এদিকে ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা জয়নাল আবেদীন বলেন, কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় আগে যোগদান করা শিক্ষকেরা অন্যত্র চলে গেছেন। তারা এখন আর প্রতিষ্ঠানে আসেন না। খুব দ্রুত ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

 

বিষয় : এইচএসসি টাঙ্গাইল

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Dhaka Sentinel-Bangla

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


১৬ শিক্ষকের বিপরীতে ৪ শিক্ষার্থী, তবুও পাস করেনি কেউ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সূর্যতরুণ শিক্ষাঙ্গন আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চার শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।  এর আগে, ২০২৫ সালেও ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করেছিল। ধারাবাহিক এই ফল বিপর্যয়ে প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ১৯৮১ সালে সূর্যতরুণ শিক্ষাঙ্গন নামে একটি কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৮ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখা এমপিওভুক্ত হলেও কলেজ শাখা এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় কলেজ শাখার অধিকাংশ শিক্ষক অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন। ফলে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা জয়নাল আবেদীন জানান, কলেজ শাখায় ১৬ জন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকেরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসেন না। এ কারণে নিয়মিত ক্লাসও হয় না। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য দুই শিক্ষার্থী লালন মিয়া ও রানা হাসান জানান, গত প্রায় দুই বছরে তাদের মাত্র দুই থেকে তিন দিন ক্লাস হয়েছে। এ সময়ে কোনো মাসিক বা নির্বাচনী পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি। শুধু ফরম পূরণ করে তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজ শাখার ভবনের কক্ষগুলোতে তালা ঝুলছে। শ্রেণিকক্ষগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষকের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। স্কুল শাখার একজন শিক্ষক জানান, গত বছর কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। অন্যদিকে, একাদশ শ্রেণিতে তিনজন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও তারা কেউ নিয়মিত ক্লাসে আসে না। এ কারণে শিক্ষকেরাও প্রতিষ্ঠানে আসেন না। কলেজ শাখার অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর কলেজ শাখায় মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় গত পাঁচ বছর ধরে কলেজ শাখার শিক্ষকেরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসছেন না। এদিকে ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা জয়নাল আবেদীন বলেন, কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় আগে যোগদান করা শিক্ষকেরা অন্যত্র চলে গেছেন। তারা এখন আর প্রতিষ্ঠানে আসেন না। খুব দ্রুত ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।          

Dhaka Sentinel-Bangla

​Founder & CEO: Rimon Hasan  CEO & Editor-in-Chief: Juwel Mia Managing Director: Tanjim Tohin

কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত