Dhaka Sentinel-Bangla

সিলেটের উইকেটেও একাদশ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

সিলেটের উইকেটেও একাদশ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন
ছবি: ক্রিকইনফো

মিরপুরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। সিলেটের উইকেট, আবহাওয়া ও কন্ডিশন বিবেচনায় এবার একাদশে পরিবর্তনের প্রত্যাশাও ছিল। বিশেষ করে পেসারদের জন্য সহায়ক পরিবেশে তিন পেসার নিয়ে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। বাস্তবে হলো উলটো।

মিরপুরের মতো সিলেটেও তিন স্পিনার ও দুই পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। প্রথম দিনেই প্রশ্ন উঠেছে, একাদশ নির্বাচনে আবারও কি ভুল করল স্বাগতিকরা?

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটে শুরুর দিকে পেসারদের জন্য কিছুটা বাড়তি সহায়তার প্রত্যাশা ছিল। নতুন বলে আর্দ্রতা ও বাতাসের প্রভাব কাজে লাগানোর সুযোগও ছিল। টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং নেওয়ার পর বাংলাদেশের পেসাররা সেই সুযোগ ভালোভাবেই কাজে লাগান।

তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে মাত্র ২৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। ব্র্যান্ডন কিং, কাভেম হজ ও জশুয়া ডা সিলভাকে ফিরিয়ে শুরুতেই ক্যারিবীয়দের চাপে ফেলে দেন দুই পেসার। কিন্তু এরপরই যেন বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।

কেভিন উইকহাম ও আমির জাঙ্গু ক্রিজে থিতু হওয়ার পর বাংলাদেশের বোলারদের ওপর পালটা চাপ তৈরি করেন। চতুর্থ উইকেটে ১৩১ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন তারা। লাঞ্চের পর উইকেট থেকে পেসারদের সহায়তা কমে এলেও একজন বাড়তি গতিময় বোলার থাকলে আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করার সুযোগ পেত বাংলাদেশ।

মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের স্পিনাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রভাব রাখতে পারেননি। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের বিপক্ষে স্পিন আক্রমণ খুব একটা কার্যকর হয়নি। অথচ সিলেটের উইকেট নিয়ে শুরুতে কিছুটা দ্বিধা ছিল। বিসিবির প্রধান কিউরেটর টনি হেমিংও ম্যাচের আগের দিন উইকেট পর্যবেক্ষণ করেছেন। টিম ম্যানেজমেন্ট চেয়েছিল স্পিনসহায়ক উইকেট। কিন্তু সিলেটের আবহাওয়া সেই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গরম থাকলেও আকাশ মেঘলা থাকায় রোদে উইকেট শুকিয়ে ফাটল ধরার সুযোগ কম ছিল।

আরও পড়ুনআরও পড়ুনটসে হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে আছেন কারা

ম্যাচের আগের দিনও উইকেটে প্রায় চার মিলিমিটার ঘাস ছিল। এমন কন্ডিশনে পেসারদের গুরুত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও একাদশে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তিন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান থাকলেও প্রথম দিন তাদের কেউই উইকেট পাননি। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

প্রথম চারটি উইকেটই গেছে দুই পেসার তাসকিন ও হাসান মাহমুদের ঝুলিতে। বিশেষ করে লাঞ্চের পর উইকেটের জন্য হাহাকার করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

কেভিন উইকহাম ১৪৫ বলে ৬১ রান করে আউট হওয়ার আগে আমির জাঙ্গুর সঙ্গে গড়েন ১৩১ রানের জুটি। জাঙ্গু সেঞ্চুরি করে দলকে বড় সংগ্রহের পথে রেখেছেন। একজন বাড়তি পেসার থাকলেই বাংলাদেশ বেশি উইকেট পেত, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে সিলেটের উইকেট ও আবহাওয়ার বাস্তবতা বিবেচনায় তিন পেসার খেলানোর সুযোগ ছিল।

মিরপুরের অভিজ্ঞতার পরও একই ধরনের একাদশ বেছে নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে। উইকেটের চরিত্র বুঝতে কি আবারও ভুল করল বাংলাদেশ?

বিষয় : বাংলাদেশ ক্রিকেট বিসিবি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট টেস্ট ক্রিকেট

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Dhaka Sentinel-Bangla

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


সিলেটের উইকেটেও একাদশ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
মিরপুরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। সিলেটের উইকেট, আবহাওয়া ও কন্ডিশন বিবেচনায় এবার একাদশে পরিবর্তনের প্রত্যাশাও ছিল। বিশেষ করে পেসারদের জন্য সহায়ক পরিবেশে তিন পেসার নিয়ে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। বাস্তবে হলো উলটো। মিরপুরের মতো সিলেটেও তিন স্পিনার ও দুই পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। প্রথম দিনেই প্রশ্ন উঠেছে, একাদশ নির্বাচনে আবারও কি ভুল করল স্বাগতিকরা? সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটে শুরুর দিকে পেসারদের জন্য কিছুটা বাড়তি সহায়তার প্রত্যাশা ছিল। নতুন বলে আর্দ্রতা ও বাতাসের প্রভাব কাজে লাগানোর সুযোগও ছিল। টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং নেওয়ার পর বাংলাদেশের পেসাররা সেই সুযোগ ভালোভাবেই কাজে লাগান। তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে মাত্র ২৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। ব্র্যান্ডন কিং, কাভেম হজ ও জশুয়া ডা সিলভাকে ফিরিয়ে শুরুতেই ক্যারিবীয়দের চাপে ফেলে দেন দুই পেসার। কিন্তু এরপরই যেন বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। কেভিন উইকহাম ও আমির জাঙ্গু ক্রিজে থিতু হওয়ার পর বাংলাদেশের বোলারদের ওপর পালটা চাপ তৈরি করেন। চতুর্থ উইকেটে ১৩১ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন তারা। লাঞ্চের পর উইকেট থেকে পেসারদের সহায়তা কমে এলেও একজন বাড়তি গতিময় বোলার থাকলে আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করার সুযোগ পেত বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের স্পিনাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রভাব রাখতে পারেননি। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের বিপক্ষে স্পিন আক্রমণ খুব একটা কার্যকর হয়নি। অথচ সিলেটের উইকেট নিয়ে শুরুতে কিছুটা দ্বিধা ছিল। বিসিবির প্রধান কিউরেটর টনি হেমিংও ম্যাচের আগের দিন উইকেট পর্যবেক্ষণ করেছেন। টিম ম্যানেজমেন্ট চেয়েছিল স্পিনসহায়ক উইকেট। কিন্তু সিলেটের আবহাওয়া সেই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গরম থাকলেও আকাশ মেঘলা থাকায় রোদে উইকেট শুকিয়ে ফাটল ধরার সুযোগ কম ছিল। আরও পড়ুনআরও পড়ুনটসে হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে আছেন কারা ম্যাচের আগের দিনও উইকেটে প্রায় চার মিলিমিটার ঘাস ছিল। এমন কন্ডিশনে পেসারদের গুরুত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও একাদশে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তিন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান থাকলেও প্রথম দিন তাদের কেউই উইকেট পাননি। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।  প্রথম চারটি উইকেটই গেছে দুই পেসার তাসকিন ও হাসান মাহমুদের ঝুলিতে। বিশেষ করে লাঞ্চের পর উইকেটের জন্য হাহাকার করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। কেভিন উইকহাম ১৪৫ বলে ৬১ রান করে আউট হওয়ার আগে আমির জাঙ্গুর সঙ্গে গড়েন ১৩১ রানের জুটি। জাঙ্গু সেঞ্চুরি করে দলকে বড় সংগ্রহের পথে রেখেছেন। একজন বাড়তি পেসার থাকলেই বাংলাদেশ বেশি উইকেট পেত, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে সিলেটের উইকেট ও আবহাওয়ার বাস্তবতা বিবেচনায় তিন পেসার খেলানোর সুযোগ ছিল। মিরপুরের অভিজ্ঞতার পরও একই ধরনের একাদশ বেছে নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে। উইকেটের চরিত্র বুঝতে কি আবারও ভুল করল বাংলাদেশ?

Dhaka Sentinel-Bangla

​Founder & CEO: Rimon Hasan  CEO & Editor-in-Chief: Juwel Mia Managing Director: Tanjim Tohin

কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত