ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। এসময় তিনি বিরক্তিও প্রকাশ করেন।
এদিকে পরীমণির সঙ্গে আসা তার নিরাপত্তারক্ষীর ধাক্কায় আদালতে আসা এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসব ঘটনা ঘটে। পরীমণির আদালতে আসাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ছিল বুধবার। তবে পরীমণি আদালতে হাজির হননি। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত কারণে পরীমনি অসুস্থ। এই কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।
তবে আসামিপক্ষের আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন বাতিল করে পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
বৃহস্পতিবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরদিনই আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে এসে পৌঁছান পরীমণি।
ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে গাড়িতেই বসে ছিলেম পরীমণি। তাকে ঘিরে ছিলেন তার নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরা। আশপাশ দিয়ে মানুষের চলাচল কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করেন তারা।
কালো পোশাক পরিহিত ১১ নিরাপত্তারক্ষীসহ সাধারণ পোশাকে আরও কয়েকজনকে তাকে ঘিরে রাখতে দেখা যায়।
এদিকে পরীমণি আত্মসমর্পণ করবেন জেনে অনেক সাংবাদিক আদালতপাড়ায় ভীড় জমান।
১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে এজলাসের উদ্দেশে বের হন পরীমণি। তার নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ঘিরে এজলাসে নিয়ে যান। এসময় সাংবাদিকরা ছবি, ভিডিও করতে গেলে ধাক্কাধাক্কি করেন তার নিরাপত্তারক্ষীরা।
লিফটে ওঠার সময় ভিডিও করতে গেলে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মোবাইল কেড়ে নেন পরীমণি। পরে রবিউল হোসাইন আবার টান মেরে মোবাইল ফিরিয়ে নেন।
ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমানের আদালতে যান পরীমণি। পরে শুনানি শুরু হয়। আদালতের বেঞ্চে বসে থাকা পরীমণি আসামির কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান। পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিনের আদেশ দেয়।
জামিন নিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমণিকে ঘিরে রাখেন তার নিরাপত্তারক্ষীরা। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে, ভিডিও করতে গেলে ধাক্কাধাক্কি করেন পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীরা। তাদের ধাক্কায় আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা সুজন চন্দ্র মনি দাস নামে এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায়। সেখান থেকে রক্তক্ষরণ হতে দেখা যায়।
এবিষয়ে সুজন চন্দ্র মনি দাসের ভাই বলেন, ‘আমরা আদালতে এসেছিলাম। এখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নায়িকা পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীরা ধাক্কা দিয়ে আমার ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।’
এদিকে নিচে এসে গাড়িতে ওঠার আগে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের দিকে তেড়ে যান পরীমণি। এসময় সাংবাদিকদের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে। পরে আদালতপ্রাঙ্গন ছাড়েন তিনি।
পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় অনেক সাংবাদিক হেনস্তা হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
এমনভাবে নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে আদালতে আসা নিয়ে পরীমণি প্রতি অনেক আইনজীবী ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে মামলাটি করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন। আদালত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়।
২০২৩ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মনির হোসেন আদালতে পরীমণি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেন। তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
ওই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত দুই আসামিকে ২৫ জুন আদালতে হাজির হতে সমন জারি করে। ওই দিন আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তারা।
গত বছরের গত ২৬ জানুয়ারি পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জুনাইদ।
সেদিন পরীমণি আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে পরোয়ানা জারির পর দিনই আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
এরপর ২৭ মার্চ এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন দায়ের করেছিলেন এ চিত্রনায়িকা। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাজ্জাদুর রহমান খান খারিজ করে দিয়ে মামলা চলতে কোনও বাধা নেই মর্মে আদেশ দেন।
বিষয় : পরীমণি

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

মতামত