জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসা ছাত্র মো. আরিফ নিহতের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা, বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন ডিবিসির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন এ আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আপাতত ইকবাল সোবহান চৌধুরীর রিমান্ডের আবেদন নেই। তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।’
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ বিষয়ে শুনানির তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন।
এর আগে বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে বেসরকারি টিভি ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে টেলিভিশন স্টেশনটির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। সে সময় প্রতিষ্ঠানের প্রধান অপরাধ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকেও পুলিশ নিয়ে যায়।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্বেও আছেন।
তাকে গ্রেফতারের পরপর ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের ডিসি আকতার হোসেন বলেছিলেন, ‘একটি খবর প্রচারকে কেন্দ্র করে ডিবিসিতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজিব ঘোষকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কী সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।
রাতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে মাদ্রাসা ছাত্র আরিফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
তবে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তথ্য দেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দাপ্রধান শফিকুল ইসলাম।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজারের রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের গোলাগুলিতে চোখে গুলি লাগে লর্ড হ্যার্ডিঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র আরিফের। চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরিফের বাবা মো. ইউসুফ যাত্রাবাড়ী থানায় শেখ হাসিনাসহ ২৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে ২০২৪ সালের ২৫ অগাস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। মামলার ৫৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
বিষয় : কারাগার জুলাই মামলা

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

মতামত