চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মা ইলিশ রক্ষায় এক দিনে তিন দফা অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও নৌ পুলিশ। এসব অভিযানে ৩০ হাজার ৫০০ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, ৪০ মিটার সুতার জাল ও ১৬০ মিটার চায়না চাই জব্দ করা হয়েছে। এ সময় সাত জেলেকে আটক করা হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব অভিযান চালানো হয়।
মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনির নেতৃত্বে মেঘনা নদীতে অভিযান চালানো হয়। এতে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে ও মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগে ৩০ হাজার মিটার জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
বিকেলে উপজেলা মৎস্য বিভাগ আবারও অভিযান চালায়। এ সময় মোহনপুর ইউনিয়নের এখলাছপুরসংলগ্ন মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগে আলমগীর (৪২), সিপন (৩২), মুন্না (২২) ও শহিদুল (২৮) নামের চার জেলেকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ৫০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা নাসিরার চরসংলগ্ন মরাপদ্মার মুখে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় নিষিদ্ধ সুতার জাল ও চায়না চাই দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগে মাফুজ মিয়া (৫০), খলিল মিজি (৬০) ও মীর হোসেন (৪০) নামের তিন জেলেকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ৪০ মিটার নিষিদ্ধ সুতার জাল ও ১৬০ মিটার চায়না চাই জব্দ করা হয়। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের পৃথক ধারায় মামলা হয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নদীতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ এবং অবৈধ মাছ শিকার প্রতিরোধে উপজেলা টাস্কফোর্সের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

মতামত