‘স্টার ট্রেক’ ও ‘এক্স-মেন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘চার্লস জেভিয়ার’ শেক্সপিয়রীয় গাম্ভীর্য ও অভিনয়ের গভীরতা যোগ করা ধ্রুপদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিনেতা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। স্থানীয় সময় গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে মারা যান তিনি। আলঝেইমারস রোগ ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর ‘সংক্ষিপ্ত কিন্তু মর্মস্পর্শী এক লড়াইয়ের’ পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র কেলি বুশ নোভাক। এর আগে স্টুয়ার্টের এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে ‘এক্স-মেন’ সিরিজে স্টুয়ার্টের সঙ্গে একাধিকবার অভিনয় করা হিউ জ্যাকম্যান লিখেছেন, ‘আজ আমরা মঞ্চ ও পর্দার অন্যতম সেরাদের একজনকে হারালাম। আমার কাছে তিনি ছিলেন অসাধারণ বন্ধু ও একজন মহৎ মানুষ। তাঁর কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট, জীবনের প্রতিটি দিন আপনাকে মিস করব।’ ‘এক্স-মেন’ সিরিজ ও চলচ্চিত্রে অধ্যাপক চার্লস জেভিয়ার এবং ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’ সিরিজ ও চলচ্চিত্রে ক্যাপ্টেন জ্যঁ-লুক পিকার্ড চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন স্টুয়ার্ট। তবে তাঁর অভিনয়জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে মঞ্চে। এক্স-মেনের কাল্পনিক জগৎ কিংবা ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ মহাকাশযানের চেয়ে থিয়েটারের মঞ্চেই বেশি সময় কাটিয়েছেন তিনি। ক্লডিয়াস থেকে ম্যাকবেথ—শেক্সপিয়রের নানা চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রায়ই একক অভিনয়ে চার্লস ডিকেন্সের ‘এ ক্রিসমাস ক্যারল’ মঞ্চস্থ করতেন তিনি। এ ছাড়া ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইয়ান ম্যাককেলেনের সঙ্গে হ্যারল্ড পিন্টারের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ এবং স্যামুয়েল বেকেটের ‘ওয়েটিং ফর গডো’ নাটকে ওয়েস্ট এন্ড ও ব্রডওয়েতে অভিনয় করেছেন। নাটক দুটি পর্যায়ক্রমে মঞ্চস্থ হয়েছিল। স্টুয়ার্টের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক জানিয়ে ইয়ান ম্যাককেলেন লিখেছেন, ‘তিনি নিজের অনুভূতি কখনো আড়াল করতেন না। এ কারণেই তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যার ওপর নির্ভর করা যায়, যাঁকে শ্রদ্ধা করা যায় এবং আমার ক্ষেত্রে যাঁকে ভালোবাসা যায়।’ অভিনয়জীবনে তিনটি অলিভিয়ে পুরস্কার পেয়েছেন স্টুয়ার্ট। এর মধ্যে একটি পেয়েছিলেন ডেভিড টেন্যান্টের বিপরীতে ‘হ্যামলেট’ নাটকে ক্লডিয়াস চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। এ ছাড়া তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একটি গ্র্যামি পুরস্কার। ১৯৯৬ সালে ‘পিটার অ্যান্ড দ্য উলফ’ অডিও রেকর্ডিংয়ের জন্য সেরা কথ্য অ্যালবাম বিভাগে এই পুরস্কার পান তিনি। ক্যারিয়ারের বেশ কয়েকটি সেরা সমালোচনামূলক প্রশংসা অর্জন করেন জীবনে প্রথমবার ম্যাকবেথ চরিত্রে অভিনয় করে। রুপার্ট গুল্ডের পরিচালনায় নাটকটির মঞ্চায়ন শুরু হয় ২০০৭ সালের মে মাসে ইংল্যান্ডের চিচেস্টার ফেস্টিভ্যাল থিয়েটারে। পরে এটি লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডে মঞ্চস্থ হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিন একাডেমি অব মিউজিকে প্রদর্শিত হওয়ার পর ২০০৮ সালে ব্রডওয়েতে স্থানান্তরিত হয়। ম্যাকবেথ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নিজের ক্যারিয়ারে একমাত্র টনি অ্যাওয়ার্ড মনোনয়ন পান স্টুয়ার্ট। তাঁর অভিনয় নিয়ে দ্য টাইমস অব লন্ডন লিখেছিল, তাঁর ম্যাকবেথ চরিত্রটি ছিল ‘দুর্বলতা, আকাঙ্ক্ষা, আত্মম্ভরিতা ও বিষণ্ন রসবোধের এক মুগ্ধকর সৃষ্টি’। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ তাঁর অভিনয়কে অভিহিত করেছিল ‘সত্যিকার অর্থেই অসাধারণ অভিনয়’ হিসেবে। আর দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছিল, নাটকটি ছিল ‘অবশ্যই দেখার মতো’। ২০০৮ সালে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট বলেছিলেন, ‘প্রায় ৫০ বছর ধরে আমি এই চরিত্রে অভিনয়ের অপেক্ষা করেছি। ১৪ বছর বয়সে নাটকটি শিখেছিলাম। শুধু সংলাপগুলো অসাধারণ মনে হয়েছিল বলেই সব স্বগতোক্তি মুখস্থ করে ফেলেছিলাম। সেগুলো আমার মনে গেঁথে গিয়েছিল। ফলে নাটকের ওই অংশগুলো আর নতুন করে শিখতে হয়নি। এটা ছিল আশীর্বাদের মতো। কারণ, এখন সংলাপ মুখস্থ করাই এই পেশার সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।