Dhaka Sentinel-Bangla

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আনতে কাতারের দ্বারস্থ ভারতের শীর্ষ গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আনতে কাতারের দ্বারস্থ ভারতের শীর্ষ গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট থেকে উদ্ভূত জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে নিজেদের এলএনজি আমদানিতে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। দেশটির সর্ববৃহৎ গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড কাতারের সাথে সম্পাদিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগৃহীত এলএনজি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারতীয় এই কোম্পানির অনুরোধ বিবেচনার বিষয়ে দোহাও নমনীয় মনোভাব দেখাতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

মঙ্গলবার এক অ্যানালিস্ট কলে পেট্রোনেটের গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার বিবেক মিত্তল জানান, ২০২৮ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু এলএনজি সরবরাহের বিষয়ে কাতারের সাথে আলোচনা চলছে। বর্তমানে ভারতের সর্ববৃহৎ এলএনজি সরবরাহকারী দেশ কাতার পেট্রোনেটকে বছরে সাড়ে ৭৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হতে যাওয়া এই চুক্তিটি ২০৪৮ সাল পর্যন্ত আরও ২০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে, যেখানে কাতার সরাসরি পৌঁছানো ভিত্তিতে (ডেলিভার্ড বেসিস) কার্গো সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নবায়ন করা চুক্তির অধীনে সরবরাহে বৈচিত্র্য আনার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিবেক মিত্তল বলেন, ২০২৮ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নবায়নকৃত চুক্তির অধীনে সরবরাহে বৈচিত্র্য আনতে আমরা অবশ্যই কাতারের সাথে কিছু আলোচনা করেছি। কাতার থেকে মার্কিন এলএনজি চাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন যে, কাতার ভারতীয় কোম্পানির অনুরোধটি বিবেচনা করতে ইচ্ছুক এবং তারা যেসব অন্যান্য উৎস থেকে চুক্তি নিশ্চিত করেছে, সেখান থেকে নির্দিষ্ট কিছু পরিমাণ ভলিউম অফার করতে পারে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রে কাতারের নিজস্ব দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও সরবরাহ চুক্তি থাকায় এটি সম্ভব হতে পারে। কাতারএনার্জি গত মাসে উডসাইডের মার্কিন স্থাপনাগুলো থেকে বছরে ৩০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কেনার জন্য একটি ২০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার সরবরাহ ২০৩০ সাল থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি শেনিয়্যার এনার্জির সাথে স্যাবাইন পাস এবং কর্পাস ক্রিস্টি প্ল্যান্ট থেকে ২০৫৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৪০ লাখ টন পর্যন্ত এলএনজি পাওয়ার লক্ষ্যে দুটি পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে ইরান যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। ফলে কাতারএনার্জি এলএনজি সরবরাহের ওপর ফোর্স মেজর (অনিবার্য দুর্ঘটনাজনিত স্থগিতাদেশ) ঘোষণা করতে বাধ্য হয়, যা সাময়িকভাবে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোনেট কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় তাদের তিনটি এলএনজি ট্যাঙ্কার চ্যাটারিং বা ভাড়ার চুক্তি স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকট ভারতকে বিকল্প বাজারের দিকে ঝুকতে বাধ্য করেছে। সংকট কাটাতে ভারত বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং অস্ট্রেলিয়া সহ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ থেকে সুপার-চিলড গ্যাস কেনা বাড়িয়ে দিয়েছে। 

সূত্র: রয়টার্স  

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Dhaka Sentinel-Bangla

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আনতে কাতারের দ্বারস্থ ভারতের শীর্ষ গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট থেকে উদ্ভূত জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে নিজেদের এলএনজি আমদানিতে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। দেশটির সর্ববৃহৎ গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড কাতারের সাথে সম্পাদিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগৃহীত এলএনজি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারতীয় এই কোম্পানির অনুরোধ বিবেচনার বিষয়ে দোহাও নমনীয় মনোভাব দেখাতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। মঙ্গলবার এক অ্যানালিস্ট কলে পেট্রোনেটের গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার বিবেক মিত্তল জানান, ২০২৮ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু এলএনজি সরবরাহের বিষয়ে কাতারের সাথে আলোচনা চলছে। বর্তমানে ভারতের সর্ববৃহৎ এলএনজি সরবরাহকারী দেশ কাতার পেট্রোনেটকে বছরে সাড়ে ৭৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হতে যাওয়া এই চুক্তিটি ২০৪৮ সাল পর্যন্ত আরও ২০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে, যেখানে কাতার সরাসরি পৌঁছানো ভিত্তিতে (ডেলিভার্ড বেসিস) কার্গো সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নবায়ন করা চুক্তির অধীনে সরবরাহে বৈচিত্র্য আনার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিবেক মিত্তল বলেন, ২০২৮ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নবায়নকৃত চুক্তির অধীনে সরবরাহে বৈচিত্র্য আনতে আমরা অবশ্যই কাতারের সাথে কিছু আলোচনা করেছি। কাতার থেকে মার্কিন এলএনজি চাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন যে, কাতার ভারতীয় কোম্পানির অনুরোধটি বিবেচনা করতে ইচ্ছুক এবং তারা যেসব অন্যান্য উৎস থেকে চুক্তি নিশ্চিত করেছে, সেখান থেকে নির্দিষ্ট কিছু পরিমাণ ভলিউম অফার করতে পারে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে কাতারের নিজস্ব দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও সরবরাহ চুক্তি থাকায় এটি সম্ভব হতে পারে। কাতারএনার্জি গত মাসে উডসাইডের মার্কিন স্থাপনাগুলো থেকে বছরে ৩০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কেনার জন্য একটি ২০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার সরবরাহ ২০৩০ সাল থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি শেনিয়্যার এনার্জির সাথে স্যাবাইন পাস এবং কর্পাস ক্রিস্টি প্ল্যান্ট থেকে ২০৫৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৪০ লাখ টন পর্যন্ত এলএনজি পাওয়ার লক্ষ্যে দুটি পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইরান যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। ফলে কাতারএনার্জি এলএনজি সরবরাহের ওপর ফোর্স মেজর (অনিবার্য দুর্ঘটনাজনিত স্থগিতাদেশ) ঘোষণা করতে বাধ্য হয়, যা সাময়িকভাবে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোনেট কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় তাদের তিনটি এলএনজি ট্যাঙ্কার চ্যাটারিং বা ভাড়ার চুক্তি স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকট ভারতকে বিকল্প বাজারের দিকে ঝুকতে বাধ্য করেছে। সংকট কাটাতে ভারত বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং অস্ট্রেলিয়া সহ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ থেকে সুপার-চিলড গ্যাস কেনা বাড়িয়ে দিয়েছে।  সূত্র: রয়টার্স  

Dhaka Sentinel-Bangla

​Founder & CEO: Rimon Hasan  CEO & Editor-in-Chief: Juwel Mia Managing Director: Tanjim Tohin

কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত