বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) জন্য প্রথম দফার আলোচনা ঢাকায় শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী এ আলোচনা চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এফটিএ হলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অসম বাণিজ্য ভারসাম্য কিছুটা কমার পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মালয়েশিয়ার ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছে। দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দেওয়া খসড়ার ভিত্তিতে আলোচনা হবে। এতে বাজারে প্রবেশাধিকার, ব্যবসার সুযোগ এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশের জন্য পণ্যের মূল্য সংযোজন ও উৎপত্তির বিধিমালা বা ‘রুলস অব অরিজিন’ গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এসব বিষয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দুই দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় সেবা খাত এবং মালয়েশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়ও আলোচনা হবে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় এফটিএ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়। ওই সময় প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত ও ভবিষ্যৎমুখী এফটিএ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
দুই দেশের বাণিজ্য এখনও ব্যাপকভাবে মালয়েশিয়ার অনুকূলে। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) হিসাবে, দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ১০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ২৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। বিপরীতে আমদানি হয়েছে ২৬০ কোটি ডলারের বেশি। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩১ কোটি ডলার। এফটিএ হলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা এবং খাদ্য ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও কাঠামোবদ্ধ বাণিজ্য ব্যবস্থা তৈরি হবে। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় আট লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন বলে বিএমসিসিআই জানিয়েছে।
আলোচনার নেতৃত্ব নিয়ে জটিলতা এফটিএ নিয়ে আলোচনার আগে নেতৃত্ব নির্ধারণে চ্যালেঞ্জে পড়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ধরনের বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ অনুবিভাগ। কিন্তু সম্প্রতি এ বিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারকে গত ১৮ অক্টোবর পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় তিনি বাংলাদেশের প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ বিভাগের যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদও সম্প্রতি বদলি হয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে গেছেন। একাধিক বাণিজ্য আলোচনায় তিনি উপপ্রধান আলোচক ছিলেন। ফলে এফটিএ অনুবিভাগের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ছাড়াই মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে হচ্ছে মন্ত্রণালয়কে। এর মধ্যে বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীও যোগ দিয়েছেন মাত্র দুদিন আগে। এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রধান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনকে। উপপ্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একই অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমান। এফটিএ অনুবিভাগের দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নের কারণে নতুন করে আলোচক দল সাজাতে হয়েছে মন্ত্রণালয়কে।
বিষয় : বাণিজ্য চুক্তি

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মতামত