প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বক্তব্যে শহীদ জিয়ার নাম না বলায় ক্ষোভ, দুঃখ প্রকাশ শিক্ষা কর্মকর্তার
ডেস্ক নিউজ ||
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরে নিজের বক্তব্যের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে মোহনগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনাসভায় এ ঘটনা ঘটে।
উপস্থিত বিএনপি নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন কর্মকর্তারা জানান, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ। তার পুরো বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। এতে হলরুমে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আসন ছেড়ে আবার মঞ্চে যান শিক্ষা কর্মকর্তা। এসময় তিনি তার বক্তব্যের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুজ্জামান ফরিদ বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা তার বক্তব্যে একবারও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেননি। সাত নভেম্বরের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাকে বাদ দিলে এ দিবসের কোনো অর্থ থাকে না। এ কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে কর্মকর্তা দুঃখ প্রকাশ করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ বলেন, ‘আমাকে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দিতে বলা হয়েছিল। আগে থেকে কোনো লিখিত বক্তব্য বা স্ক্রিপ্ট প্রস্তুত ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য দেওয়ায় আলোচ্য প্রসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম আসেনি।’
তিনি বলেন, ‘বক্তব্য শেষে একজন এসে মঞ্চে বসা ইউএনওর কাছে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দর্শক সারিতে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে আবার বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করি। এ সময় ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বক্তব্য দেওয়ার সময় জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। কর্মকর্তা লিখিত বক্তব্য না থাকায় এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি সেখানেই সমাধান হয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত