প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষ কৃষিজমি ধ্বংস করছে
ডেস্ক নিউজ ||
নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে। জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আজ শনিবার খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হরিণখোলায় শহীদ করুণাময়ী স্মৃতিবেদীতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। চিংড়ি ঘের ও বহিরাগতদের আগ্রাসন রুখে কৃষিজমি রক্ষার আন্দোলনে শহীদ হওয়া করুণাময়ী সর্দারের ৩৬তম দিবস উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’ এবং স্থানীয় ভূমিহীন সংগঠন যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
খুশী কবির বলেন, জনগণের মতামতকে তোয়াক্কা না করে বহিরাগতরা মৎস্য হ্যাচারি তৈরি করছে। এটি পরিবেশের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। তিনি ২২ নম্বর পোল্ডারে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণকে এলাকার মানুষের মূল দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন। এই দাবি আদায়ে প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আন্দোলনকে আরও গতিশীল করার জন্য সংগঠনের কর্মীদের প্রতি তাগিদ দেন।
জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সকাল ১১টায় সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্মরণসভায় উপকূলীয় অঞ্চলের নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
সভায় নিজেরা করি’র কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য আফজালুন্নেসা চৌধুরী বলেন, শহীদ করুণাময়ীর স্মরণসভায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের এই বিপুল উপস্থিতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। নতুন প্রজন্ম লড়াই ও সংগ্রামের ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। এটি সমাজ পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ভূমিহীন আন্দোলনের নেতারা বহিরাগতদের হাত থেকে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষার দাবি জানান।
ভূমিহীন নেতা শহীদুল ইসলাম বলেন, বহিরাগতরা করুণাময়ীর রক্তভেজা মাটিতে হ্যাচারি করে কৃষিজমি ধ্বংস করছে। ২২ নম্বর পোল্ডারের মানুষের প্রাণের দাবি হলো স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ।
লবণ পানির ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে ভূমিহীন নেত্রী ইতিকা বৈরাগী বলেন, নোনা পানির আগ্রাসনের কারণে উপকূলের নারীরা নানা ধরনের দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে আশার কথা শুনিয়ে শাহিনুর বেগম বলেন, আমরা ২২ নম্বর পোল্ডারের করুণাময়ী সর্দারের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছি। এর মাধ্যমে ৩০ নম্বর পোল্ডারকে ঘেরমুক্ত করে কৃষির পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছি।
পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সমারকান্তি হালদার এবং সরকারি বিএল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল সভায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, চিংড়ি চাষিরা স্থানীয় লোক নয়, তারা বহিরাগত। এরা পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলের নদী ও খালগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ভূমিহীন নেতা লোকেশ্বর কবিরাজ বলেন, পরিকল্পিতভাবে নদী খনন না করলে সামগ্রিক কৃষিব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে। পরিবেশের ওপর জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে কথা বলেন ভূমিহীন নেত্রী দীপ্তি বৈরাগীও।
স্মরণসভার শেষভাগে নোয়াই কিশোর-কিশোরী দলের পরিবেশনায় লবণাক্ততার প্রভাব নিয়ে একটি বিশেষ পুতুল নাচ প্রদর্শিত হয়। এরপর সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং উপকূলীয় জীবনের সংকট নিয়ে নির্মিত নাটক ‘নোনা কাব্য’ মঞ্চস্থ হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত