প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
তৌফিক হত্যার বিচার দাবিতে ঢাবিতে ছাত্র মৈত্রীর বিক্ষোভ
ডেস্ক নিউজ ||
চলমান শ্রমিক আন্দোলনে নিহত শ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিক্ষোভ।
‘শ্রমজীবী জনতার সঙ্গে একাত্ম হও, চলমান শ্রমিক আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় হামলায় শহীদ তৌফিক হত্যার বিচার চাই’ —এমন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মিছিলে অংশ নেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাত জাহান ইমু বলেন, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এটি কোনও বিচ্ছিন্ন আন্দোলন নয়। শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী অল্প বয়সেই শ্রমজীবনে প্রবেশ করতে বাধ্য হন। শ্রমিক তৌফিক শেখও এমন একজন, যিনি বাবার মৃত্যুর পর পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে না পেরে গাজীপুরে চাকরি নেন। তাই শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানো ছাত্রসংগঠন হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এই শিক্ষার্থী বলেন, ২০২৩ সালে ন্যূনতম মজুরি নিয়ে আন্দোলনের সময় দুই শ্রমিককে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালে বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনেও শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বর্তমান আন্দোলনেও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন, অভ্যুত্থান কিংবা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন– কোনও কিছুতেই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি পূরণ হচ্ছে না। ২০২৪ সালের শ্রমিক আন্দোলনের পর মালিক, সরকার ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে ১৮ দফা চুক্তি হলেও দীর্ঘ সময়েও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বাড়ছে না। শ্রমিকদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত, ২০২৪ সালের ১৮ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং চলমান আন্দোলনে নিহত তৌফিক হত্যার বিচার দাবি জানানো হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত