প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
এবার দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো দিলীপ আগরওয়ালাকে
ডেস্ক নিউজ ||
এবার দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী এতথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ২৫ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখে মঙ্গলবার। এদিন শুনানিকালে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠায়।
এদিকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া তার ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৮৫ কোটি ৩২ লাখ ৬২ হাজার ১২৩ টাকা জমা এবং ৩৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯৪ হাজার ১৪০ টাকা উত্তোলনসহ সর্বমোট ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে লেয়ারিং করেছেন মর্মে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হওয়ায় দুদক মামলা দায়ের করে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।
গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন সোনা ও হীরা চোরাচালন এবং অর্থ পাচারের মামলায় তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
এরপর ২১ অক্টোবর আ. জব্বার হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে দুই দফায় ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেফতার করেছিল তখনকার র্যাব। সেদিন মধ্যরাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালায় র্যাব।
পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। নেওয়া হয় রিমান্ডেও। এসব মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।
উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ আগরওয়ালা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।
কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত