প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
এলপিজির দাম বাড়ানোর সুপারিশ, ঘোষণা আসতে পারে আগামী সপ্তাহে
ডেস্ক নিউজ ||
এলপিজি বাজারে অস্থিরতা চলছে। সরবরাহ সংকটের সুযোগে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এর মধ্যেই এলপিজি বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা। তাদের প্রস্তাব পর্যালোচনায় গণশুনানি করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে বেসরকারি এলপিজির (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বিভিন্ন পর্যায়ে অপারেটর চার্জ, ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ এবং রিটেইলার চার্জ বাড়ানোসহ ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে বিইআরসি কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এই সুপারিশ করা হয়।
বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, ইমপোর্ট প্যারিটি প্রাইস প্রতি কেজিতে বর্তমানে ১২৮ দশমিক ৪০ টাকা। নতুন প্রস্তাবনায় এটি ১১৭ দশমিক ১২ থেকে ১২৯ দশমিক ৫ টাকা করার কথা বলা হয়েছে এবং ১২৮ দশমিক ৭০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে নতুন দাম দেওয়ার কথা বিইআরসির। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী সপ্তাহেই নতুন দাম ঘোষণা দিতে পারে কমিশন।
মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ (অপারেটরের প্ল্যান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ) চার্জ বর্তমানে প্রতি কেজিতে ১৬ দশমিক ৭৪ টাকা রয়েছে, এই চার্জ নতুন করে প্রস্তাব ২৭ দশমিক ৬২ থেকে ৩৬ দশমিক ৯২ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে কারিগরি কমিটি প্রতি কেজিতে ২৩ দশমিক ৪৮ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ (রিটেইলারের আঙিনা পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ) বর্তমানে প্রতি কেজিতে রয়েছে ৪ দশমিক ১৭ টাকা, যা প্রস্তাবনায় বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৩৪ থেকে ১২ দশমিক ৫০ টাকা করার কথা বলা হয়। তবে কারিগরি কমিটি ৬ দশমিক ৬৭ টাকা করার প্রস্তাব করেছে।
রিটেইলার চার্জ (হোম ডেলিভারি চার্জ ব্যতীত) বর্তমানে প্রতি কেজিতে ৩ দশমিক ৭৫ টাকা থাকলেও, প্রস্তাবিত হার ৫ দশমিক ৮৩ থেকে ৭ দশমিক ৫০ টাকা করার কথা বলা হয়। তবে কারিগরি কমিটি ৫ দশমিক ৮৩ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করে।
রিটেইলার পয়েন্টে সব খরচ মিলিয়ে রিটেইলার প্রতি কেজি এলপিজির বর্তমান মূল্য ১৫৩ দশমিক ৬ টাকা, যা প্রস্তাবে ১৫৮ দশমিক ৯১ থেকে ১৮৫ দশমিক ৯৭ টাকা করার কথা বলা হয়। তবে কারিগরি কমিটি প্রতি কেজি এলপিজি ১৬৪ দশমিক ৬৮ টাকা দাম নির্ধারণের সুপারিশ করে। এসব ধরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।
এদিকে ক্যাবের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান শুনানিতে বলেন, এলপিজির দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা বিইআরসির দায়িত্ব। সেটি না হলে এই শুনানি সঠিক হবে না। সিনিয়র সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বারবার ব্যবসায়ীদের কথায় এভাবে দাম বাড়াতে থাকলে বিইআরসির ওপর গ্রাহকদের কোনো আস্থা থাকবে না। তাদের উচিত কেন গ্রাহকরা ন্যায্য দামে এলপিজি পাচ্ছে না, সেটা খতিয়ে দেখা। এছাড়া বেশি দাম নিচ্ছে, কৃত্রিম সংকটের অভিযোগের বিষয়ে বিইআরসির উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত