প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় থাকার পথে নেতানিয়াহু
ডেস্ক নিউজ ||
ইসরাইলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি তারা। তারপরও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো কঠিন হয়ে পড়েছে বিরোধীদের জন্য।
বুধবার প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেশটির তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাসে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর জোট ১২০ আসনের সংসদে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন।
আরব দলগুলো পেতে পারে ১৯টি আসন। এসব দলের সমর্থন ছাড়া বিরোধীদের সরকার গঠন কঠিন। তবে অধিকাংশ ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধী।
নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। প্রয়োজনে আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তাকে এই দায়িত্বে থাকতে হতে পারে।
বুধবার ভোরে নিজের দল লিকুদের সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি একটি ‘শক্তিশালী ডানপন্থী জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান।
ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের হুমকি চিরতরে দূর করার জন্য দুই দেশের সামনে ‘ইতিহাসের এক অনন্য সুযোগ’ এসেছে।
ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর নির্বাচনী ফলের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ‘খুব ভালো করেছেন’। তার সমর্থন নেতানিয়াহুকে অনেক সাহায্য করেছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
নেতানিয়াহুর বিরোধীরা আশা করেছিলেন, নির্বাচনে তার পরাজয় হলে ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির প্রভাব কমবে। তবে নির্বাচনের ফল তাদের হতাশ করেছে।
আইজেনকোট অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ইস্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘আমি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আহ্বান জানাচ্ছি, নেতানিয়াহু একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী। জনগণের কাছ থেকে তার কোনো নতুন ম্যান্ডেট বা আস্থা নেই। আপনাদের চ্যালেঞ্জ করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকুন।’
নির্বাচনের ফল ইসরাইলের রাজনীতিতে ডানপন্থীদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে। দেশটির মধ্য-বামপন্থী দলগুলো এখন অনেকটাই দুর্বল। অন্যদিকে প্রায় সব ইহুদি রাজনৈতিক দলই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এরপর গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ইসরাইলের হামলায় গাজায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইল ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলিদের মধ্যেও ভোটের হার ছিল বেশি।
সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বিরোধীদের সরকার গঠনের পথ কঠিন হয়ে পড়েছে। চূড়ান্ত ফল ও জোট গঠনের আলোচনাই ঠিক করবে ইসরাইলের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত