প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
মা হারালেন বিশ্বজয়ী কোচ স্কালোনি
ডেস্ক নিউজ ||
মারাকানার সেই রাতটা লিওনেল স্কালোনির জীবনে চিরকালই বিশেষ হয়ে থাকবে। ২০২১ সালের ১০ জুলাই। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে ২৮ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে কোপা আমেরিকা জিতেছে আর্জেন্টিনা। কোচ হিসেবে প্রথম বড় শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসছেন স্কালোনি। অথচ সেই আনন্দের মধ্যেও তাঁর মনে অন্য এক চিন্তা। অসুস্থ মা।
সেদিন ঐতিহাসিক জয়টা মাকেই উৎসর্গ করেছিলেন স্কালোনি। বলেছিলেন, ‘এই জয়টা আমি আমার মাকে উৎসর্গ করতে চাই। কয়েক দিন আগে তাঁর বেশ গুরুতর শারীরিক সমস্যা হয়েছিল। তিনি সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার লড়াই করছেন।’
পাঁচ বছর পর সেই লড়াই থেমে গেল। মাকে হারালেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ স্কালোনি।
গতকাল আর্জেন্টিনার সান্তা ফে প্রদেশের পুজাতো শহরে মারা গেছেন স্কালোনির মা ইউলালিয়া মারজেত্তি। বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। কয়েক বছর ধরেই নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। আজ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। শোক জানিয়েছে স্কালোনি ও তাঁর পরিবারের প্রতি।
পুজাতো শহরেই স্বামী আনহেল ‘চিচে’ স্কালোনির সঙ্গে থাকতেন মারজেত্তি। স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিত ছিলেন তিনি। একসময় সেখানকার শান্তি বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের তিন সন্তান লিওনেল, মাউরো ও কোরিনা। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পারিবারিক পরিসরেই মারজেত্তিকে শেষবিদায় জানানো হবে।
মায়ের অসুস্থতা নিয়ে স্কালোনির দুশ্চিন্তা নতুন কিছু ছিল না। প্রায় পাঁচ বছর ধরে শারীরিক নানা সমস্যার সঙ্গে লড়ছিলেন মারজেত্তি। ২০২১ সালের অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পেরুর বিপক্ষে ম্যাচের পর মায়ের অসুস্থতা নিয়ে প্রকাশ্যেই উদ্বেগ জানিয়েছিলেন স্কালোনি।
সেদিন আর্জেন্টিনা কোচ বলেছিলেন, ‘আমি এখন বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবার মতো অবস্থায় নেই।’ কথাটা বলেছিলেন এমন এক সময়ে, যখন তাঁর হাত ধরেই বিশ্বকাপের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ফুটবল মাঠের সাফল্যের চেয়ে তখন মায়ের সুস্থ হয়ে ওঠাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাঁর কাছে।
এরপর স্কালোনির জীবনে এসেছে একের পর এক সাফল্য। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকার পর ২০২২ সালে ফিনালিসিমা জিতেছেন। সেই বছরই কাতারে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা।
সব মিলিয়ে চারটি বড় শিরোপা। আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে নিজের নামটা স্থায়ীভাবে লিখে ফেলেছেন স্কালোনি। কিন্তু ফুটবলের সব অর্জনও জীবনের সব শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। মারাকানার সেই রাতে যে মায়ের জন্য শিরোপা উৎসর্গ করেছিলেন, সেই মা আর নেই।
বিশ্বজয়ী কোচের জীবনে এবার এমন এক হার, যার কোনো ফিরতি ম্যাচ নেই।
কপিরাইট © ২০২৬ Dhaka Sentinel-Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত